গোদাগাড়ী প্রতিনিধি
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী এলাকায় একটি কুকুরের আক্রমণে আব্দুল হামিদ (৮) নামে এক শিশুসহ একই সময়ে পাঁচজন আহত হয়েছেন। আকস্মিক এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
আহত শিশু আব্দুল হামিদ উপজেলার শহরাগাছি গ্রামের সোহেল রানার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রেমতলী এলাকায় একটি কুকুর হঠাৎ করে লোকজনের ওপর আক্রমণ চালায়। এ সময় কুকুরটির কামড়ে আব্দুল হামিদসহ পাঁচজন আহত হন। কুকুরটি একের পর এক কয়েকজনকে আক্রমণ করায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
আহতদের চিৎকার ও হৈচৈ শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। পরে আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। কুকুরের কামড়ে আহত শিশু আব্দুল হামিদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে গোদাগাড়ীর প্রেমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে শিশুটির পরবর্তী চিকিৎসা রামেক হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। আহত অপর চারজনের চিকিৎসার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ নতুন কোনো বিষয় নয়। বিভিন্ন সময় পথচারী ও শিশুদের এসব কুকুরের তাড়া করার ঘটনাও ঘটে। তবে একই সময়ে একটি কুকুরের আক্রমণে পাঁচজন আহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
অভিভাবকরা জানান, এলাকার রাস্তা ও জনবহুল স্থানে শিশুদের চলাচলের সময় এখন বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। কুকুরের আক্রমণের ঘটনা যেন পুনরায় না ঘটে, সে জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেওয়ারিশ ও আক্রমণাত্মক কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন কুকুর থাকলে যে কোনো সময় আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত এলাকায় বেওয়ারিশ ও আক্রমণাত্মক কুকুরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। পাশাপাশি কুকুরের কামড়ে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় টিকা ও চিকিৎসা-পরামর্শ নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছেন তারা।
