আলো ডেস্ক: বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান পদে ড. এম মোশাররফ হোসেন কোন কর্তৃত্ববলে বহাল আছেন, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাকে ওই পদ থেকে অপসারণ না করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। অর্থ সচিব (আর্থিক বিভাগ), অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। হাইকোর্টের বিচারপতি এম, ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। এদিন আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান ও ব্যারিস্টার কারিশমা জাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী কারিশমা জাহান বলেন, আইডিআরের চেয়ারম্যান এম মোশাররফ হোসেন ২০১৭ সালের ৯ মে ‘লাভস অ্যান্ড লাইভ অর্গানিকস লি:’ নামে একটি কোম্পানি জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে (আরজেএসসি) নিবন্ধন করেন। যার পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজে এবং স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়াকে পরিচালক করা হয়। ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি ‘গুলশান ভ্যালি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লি:’ নামে আরেকটি কোম্পানি নিবন্ধন করেন। এটারও পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিজে এবং স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়াকে পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বলেন, কিন্তু আইডিআরের আইন-২০১০ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি কোনো কোম্পানির বা সংস্থার পরিচালক বা অন্য কোনো পদে নিযুক্ত থাকলে, তিনি কর্তৃপক্ষের সদস্য বা চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্য হবেন না। অথচ দুটি কোম্পানির পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকা অবস্থায় তথ্য গোপন করে আইডিআরএ আইন ২০২০ এর ৭(৩)(খ) ধারার লঙ্ঘন করে মোশাররফ চেয়ারম্যান পদে বহাল আছেন। এ কারণে তার পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ২৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন বিনিয়োগকারী আবু সালেহ মোহাম্মদ আমিন মেহেদী। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেন। জানা যায়, ড. মোশাররফ হোসেন ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে আইডিআরএর সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হন।
