স্টাফ রিপোর্টার
রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর দুর্গাপুরে ঝটিকা মিছিল করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। মাত্র ৫ থেকে ৬ মিনিট স্থায়ী ওই মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট পরিহিত থাকায় তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে মিছিলের ব্যানারে ‘আয়োজনে- রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ’ লেখা থাকায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (২১ জুন) উপজেলার কানপাড়া-খড়খড়ি সড়কের ফলিয়ার বিল এলাকায় নির্জন স্থানে ১০ থেকে ১২ জন যুবক মোটরসাইকেলযোগে এসে ব্যানার প্রদর্শন করেন। পরে তারা সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য মিছিল বের করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মিছিলকারীদের সবাই মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট পরিহিত থাকায় তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
মিছিলে ব্যবহৃত ব্যানারে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ দারার ছবি ছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ছিল। ব্যানারে ‘প্রত্যাবর্তন-০২’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’সহ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল করার আহ্বান জানানো হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, মোটরসাইকেলে করে আসা যুবকেরা সেতুর কাছে অবস্থান নিয়ে প্রথমে ছবি তোলে এবং পরে ব্যানার হাতে কয়েক মিনিট মিছিল করে দ্রুত দুর্গাপুর বাজারের দিকে চলে যায়। এরপর তারা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
একজন ভ্যানচালক জানান, মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সবার মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট থাকায় কাউকে চিনতে পারেননি।
এদিকে রাতেই ঝটিকা মিছিলের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফসহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে এসব ছবি ও ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এরপর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার বলেন, “ঝটিকা মিছিলের বিষয়টি আমরা জেনেছি। কারা এই মিছিল করেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীদের মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট থাকায় তাদের প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “আমার থানা এলাকায় কোনো নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল বা নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার অপচেষ্টা করলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে, দুর্গাপুর পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ আবু সুফিয়ান হৃদয় মিছিলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্গাপুর উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুজ্জামান শরীফ ও ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকার ইউপি সদস্য মাহাতাব আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের তদন্তে ঝটিকা মিছিলের প্রকৃত আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় বেরিয়ে আসবে বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা।
