গোদাগাড়ী প্রতিনিধি
সীমান্তবর্তী এলাকার বেকার ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তাঁদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি পালনবিষয়ক মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি)-এর ব্যবস্থাপনায় সীমান্ত কারিগরি ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার। অনুষ্ঠানে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, মাসব্যাপী এ প্রশিক্ষণে সীমান্তবর্তী এলাকার মোট ২০ জন অংশগ্রহণ করছেন। তাঁদের মধ্যে ১১ জন নারী। প্রশিক্ষণে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি পালনের আধুনিক পদ্ধতি, উন্নত জাত নির্বাচন, খাদ্য ও পরিচর্যা, রোগ প্রতিরোধ, প্রজনন, খামার ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদিত পণ্য সঠিকভাবে বাজারজাতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জন্য শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নয়, তাঁদের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নিজস্ব উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন এবং ধীরে ধীরে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠবেন।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রশিক্ষণ নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা স্বাবলম্বী হলে তাঁদের দেখে গোদাগাড়ীর অন্যান্য বেকার যুবক-যুবতীরাও বৈধ কর্মসংস্থানে উৎসাহিত হবেন। এতে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি তাঁদের অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
বিজিবির এই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রশিক্ষণার্থীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে উপজেলা প্রশাসন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সহযোগিতা নেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে যাতে অংশগ্রহণকারীরা বাস্তবে খামার গড়ে তুলে আয় করতে পারেন, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী মানুষের জন্য বিজিবির উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণার্থীদের আগ্রহ এবং সরকারি সহযোগিতা পাওয়া গেলে এলাকায় একটি স্থায়ী প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় বেকার ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে গড়ে তুলে তাঁদের বৈধ কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করাই এ প্রশিক্ষণের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নিজ নিজ এলাকায় গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির খামার স্থাপন করতে পারবেন। এতে তাঁদের নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে অন্যদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
স্থানীয়দের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জন্য এ ধরনের কর্মমুখী প্রশিক্ষণ সময়োপযোগী উদ্যোগ। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে অংশগ্রহণকারীরা দীর্ঘমেয়াদে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারবেন।
