মোঃ আতিকুর রহমান
রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গরু চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে উজ্জল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় গরু চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ গাড়িও আটক করা হয়েছে। গোদাগাড়ী মডেল থানার প্রেমতলী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) মোঃ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার উজ্জল নওগাঁ জেলার মান্দা থানার শালদহ গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম মোঃ তনজেব আলী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তাঁর বিরুদ্ধে রাজশাহী, নওগাঁ ও নাটোর জেলার বিভিন্ন থানায় মোট সাতটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তবে মামলাগুলোর বিস্তারিত বিবরণ ও সর্বশেষ বিচারিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
চার জেলায় গরু চুরির অভিযোগ
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, গ্রেপ্তার উজ্জল তাঁর সহযোগীদের নিয়ে একটি সক্রিয় চোর চক্রের মাধ্যমে পিকআপ গাড়ি ব্যবহার করে রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরির কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। এ চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকার সাধারণ কৃষকের গবাদিপশুকে লক্ষ্যবস্তু করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গ্রামাঞ্চলের কৃষক ও ক্ষুদ্র খামারিদের কাছে গরু তাঁদের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম প্রধান অবলম্বন। অনেক পরিবার কৃষিকাজ, দুধ উৎপাদন ও গবাদিপশু পালন করে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করে। এ অবস্থায় গরু চুরির ঘটনা ঘটলে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাপনও ব্যাহত হয়।
বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য গরু হারানো বড় ধরনের আর্থিক সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে আন্তঃজেলা গরু চুরির অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার এবং সংশ্লিষ্ট পিকআপ গাড়ি আটক হওয়ার ঘটনাকে অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিন জেলায় সাতটি মামলা বিচারাধীন
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উজ্জলের বিরুদ্ধে রাজশাহী, নওগাঁ ও নাটোর জেলার বিভিন্ন থানায় সাতটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তবে এসব মামলার সঙ্গে বর্তমান গরু চুরির অভিযোগের সম্পর্ক কী, তা বিস্তারিতভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করা এবং তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে তাঁর সহযোগী হিসেবে সন্দেহভাজন অন্য ব্যক্তিরা জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
প্রেমতলী তদন্ত কেন্দ্রের আইসির নেতৃত্বে অভিযান
প্রেমতলী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) মোঃ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উজ্জলকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে আটক পিকআপ গাড়িটি গরু চুরির ঘটনায় কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয় রয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে চক্রটির সম্ভাব্য অন্য সদস্যদের শনাক্ত করা, বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত গরু চুরির ঘটনার তথ্য যাচাই করা এবং চুরির শিকার কৃষকদের অভিযোগ সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কতটি গরু চুরির সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে, কোনো গরু উদ্ধার করা হয়েছে কি না এবং তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ কী নেওয়া হয়েছে-এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
কৃষকের সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা
আন্তঃজেলা গরু চুরির অভিযোগে উজ্জলকে গ্রেপ্তার ও পিকআপ গাড়ি আটকের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে অপরাধ দমনে আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং চুরির ঘটনাগুলো তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করা জরুরি।
সাধারণ কৃষকের কষ্টার্জিত সম্পদ রক্ষা, গবাদিপশু চুরি প্রতিরোধ এবং আন্তঃজেলা অপরাধ চক্রের কার্যক্রম বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন কৃষক ও এলাকাবাসী।
