আলো ডেস্ক: ধান কাটতে রাজি না হওয়ায় খাইরুল ইসলাম (২৯) নামে এক শ্রমিককে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নেত্রকোনার মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নে মাখনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খাইরুল ইসলাম মাখনা গ্রামের মৃত আবদুল খালেকের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, খাইরুল ইসলাম ১৮ বছর ধরে স্থানীয় একটি মসজিদে মোয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বৈশাখী মৌসুমে দৈনিক মজুরিতে দল বেধে ধান কাটার কাজও করেন তিনি।
মাখনা গ্রামের দুলাল ও হক মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের এলাই মিয়ার জমি সক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এই বিরোধপূর্ণ জমির ধান কাটার জন্য দুলাল ও হক মিয়া গত বুধবার রাতে খাইরুল ইসলামকে বলেন। বিরোধ থাকায় জমির ধান কাটবে না বলে অপারগতা প্রকাশ করেন খাইরুল ইসলাম। এতে ক্ষিপ্ত হন দুলাল ও হক মিয়ার লোকজন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে খাইরুল ইসলাম হাওরে অন্যের জমিতে ধান কাটতে যান।
এ সময় হক মিয়া ও তার শ্যালক লিয়াকত আলী তাদের লোকজন নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমির ধান কাটতে চাপ দেন খাইরুল ইসলামকে। তখন খাইরুল ইসলাম ধান কাটবেন না বলে জানালে তাদের মধ্যে তর্কবির্তক হয়। একপর্যায়ে খাইরুলের হাতে থাকা ধান কাটার কাস্তে (কাঁচি) দিয়ে তাকে গলা কেটে হত্যা করে হক মিয়ার লোকজন।
পরে স্থানীয়রা খবর পেয়ে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে মদন হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মদন থানার ওসি মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম বলেন, খায়রুল ইসলাম নামের একজন কৃষি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছি। মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
