ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি
নওগাঁ সদর থানাধীন এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন সকালে নওগাঁ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোবাইল ফোনে খবর পান যে বারোমাসি বিলে কচুরিপানার নিচে একটি ভাসমান লাশ দেখা গেছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরিচয় শনাক্তের পর জানা যায়, নিহত ব্যক্তি শফিকুল ইসলাম। তিনি জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর এলাকার বাসিন্দা এবং পুরাতন মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, শফিকুল ইসলাম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গত ৯ জুন নওগাঁ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ব্যবসায়িক কাজে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ওই সময় থেকেই পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
হত্যাকা-ের মামলা দায়ের হওয়ার পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ও সদর থানার ওসির নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোপন সূত্রের তথ্য এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে পুলিশ নওগাঁ শহর থেকে জয়নুল এবং মান্দা উপজেলা থেকে আশরাফুলকে গ্রেফতার করে। জয়নুলের হেফাজত থেকে নিহতের দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, জয়নুল, আশরাফুল এবং আরও এক পলাতক সহযোগী পূর্বপরিকল্পিতভাবে শফিকুল ইসলামকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তারা সবাই শফিকুলের ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন।
গত ৮ জুন ভিকটিমসহ চারজন ভীমপুর কলেজ মোড়ে একত্রিত হন। পরে দুটি মোটরসাইকেলে করে তারা বারোমাসি বিলের পাথরঘাটি ব্রিজ এলাকায় যান। সেখানে পলাতক আসামি নাইলনের রশি দিয়ে শফিকুলের গলায় ফাঁস লাগায়। এ সময় জয়নুল তার হাত এবং আশরাফুল তার পা চেপে ধরে রাখে। শফিকুল অচেতন হয়ে পড়লে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করতে তাকে কয়েকবার বিলের পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়।
পরে আসামিরা মরদেহ কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় তারা শফিকুলের মোটরসাইকেল ও নগদ ১ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যায় এবং নিজেদের মধ্যে তা ভাগ করে নেয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সামান্য অর্থ ও মোটরসাইকেলের লোভেই এ হত্যাকা- সংঘটিত হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া এক আসামি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। অপর পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকা-ের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করেছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
