রাজশাহীর আলোঃ- সাজ্জাদুল তুহিন,নওগাঁ
নওগাঁর মান্দায় কৃষকদের সার,বীজ ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে মাটি ব্যবসায়ীরা তিন ফসলী জমির টপ সয়েল কেটে বিক্রি করছে ভাটা মালিকদের কাছে। টাকা ও সার বীজের লোভে অনায়াসে কৃষি জমির টপ সয়েল বিক্রি করছেন কৃষকেরা।
জমির টপ সয়েলের পাশাপাশি গ্রাম অঞ্চলের প্রকৃতির সৌন্দর্য নষ্ট করে উঁচু ভিটা মাটি, পুকুরপাড় কেটে সয়লাব করছেন তারা। সেইসাথে প্রাকৃতিক ভাবে জন্মানো অনেক অক্সিজেন প্রদানকারী গাছ নষ্ট করে চলেছেন। এইসব কারণে জমির উর্বরতা শক্তি হারানোর সাথে উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাহত হচ্ছে। যার করণে জমি হারাচ্ছে শস্য উৎপাদন ক্ষমতা।
এতে করে দেখা দিবে খাদ্য ঘাটতি। এছাড়াও মোটা অংকের প্রলোভন দেখিয়ে ফসলি জমি কেটে পুকুর খনন করে দিচ্ছেন মাটি ব্যবসায়ীরা। সল্প মূল্যে মাটি কিনে লাভবান হচ্ছেন ভাটা মালিকেরা। মাঠজুড়ে ভেকু মেশিন বসিয়ে ট্রাক্টরে করে মাটি নিয়ে যাচ্ছেন ইটভাটায়। এতে করে গ্রামীণ গুরুত্বপূর্ন রাস্তাঘাট, ব্রীজ ও কার্লভাট নষ্ট হচ্ছে।
যার ফলে ভবিষ্যতে চরম ভোগান্তিতে পড়বেন ওই সব এলাকার সাধারণ মানুষদের। যেন দেখার কেউ নেই। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে ম্যানেজ করে তাদের সহযোগিতায় প্রতিনিয়ত রাস্তাঘাট নষ্ট করে মাটি বাণিজ্য করে যাচ্ছেন তারা।
এসব বিষয়ে স্থানীয়রা ভূমি কর্মকর্তাদেরকে জানালেও ব্যবস্থা গ্রহনের পরিবর্তে তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে চলে যান। দায় এড়াতে কর্মকর্তারা দায়সারা ভাবে স্পটে এসে ঘুরে গেলেও কোন ব্যবস্থা নেয় না তারা। দিনের পর দিন মাটি কর্তন কাজ চলছে উপজেলার মাঠ জুড়ে।
কর্তাদের এমন কর্মকাণ্ড দেখে স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে অনেক সময় মাটি বহনকারি গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিলে স্থানীয় প্রতিনিধিদেরকে ম্যানেজ করে আবারও বহাল তবিয়তে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। যার ফলে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারন ভুক্তভোগী মানুষজন। অনেকে মাটি ব্যবসায়ীদের ভয়ে মুখ খুলছেন না।
জানা গেছে, পরানপুর ইউপির সদরপুর গ্রামের মাঠে তিনটি ভেকু মেশিন বসিয়ে ২০ থেকে ২৫টি টাক্টার দিয়ে মাটি বহন করে নিয়ে যাচ্ছে এলাকার বিভিন্ন ইটভাটায়। প্রতি গাড়ি জমির টপ সয়েল বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়।
বৈলশিং গ্রামের স্থানীয়রা জানান, মাটি ব্যবসায়ী আলম ও লিটন আমাদের পাড়ার কাঁচা রাস্তা নষ্ট করে মাটি বহন করে নিয়ে যাচ্ছেন ইট ভাটায়। এতে করে ধুলায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি আমাদের রাস্তা-ঘাট কালভার্ট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
মাটি বহন করে একটি কালভার্ট ভেঙ্গে ফেলেছে তারা। আমরা বাঁধা দিয়ে মাটির গাড়ি বন্ধ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় কাউকে তোয়াক্কা করছে না। পরানপুর ভূমি অফিস কর্মকর্তা লতিফুর ও রাসেলকে বলেও কোন কাজ হয়না।
কিছুদিন আগে কালাচিতা গ্রামে পুকুর খনন করে ওই এলাকার রাস্তাঘাট নষ্ট করে দিয়েছে। পরানপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা লতিফর রহমানের মাটি ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি বার বার উপজেলা ভূমি অফিসে ভেকু ও ট্রাক্টরের চাবি জব্দ করে দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না তারা। চাবি নিয়ে আবার কাজ শুরু করেন মাটি ব্যবসায়ীরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিন বলেন, মাটির উপরিভাগের ১০-১৫ ইঞ্চির মধ্যে উর্বরতা শঢ়ক্তি থাকে। মাটি খুঁড়ে বিক্রি করার ফলে তা পুনরায় ফিরে আসতে সময় লাগে।
এ ছাড়া মাটির এই অংশে যে কোনো ফসল বেড়ে উঠার গুণাগুণ সুরক্ষিত থাকে। বীজ রোপণের পর এই অংশ থেকেই ফসল প্রয়োজনীয় খাদ্য উৎপাদন গ্রহণ করে বড় হয়। এটাকে টপ সয়েল বলে। এই টপ সয়েল একবার কেটে নিলে সে জমিতে আর প্রাণ থাকে না।
