আলো ডেস্ক: সরকার গণআন্দোলনে দিশেহারা হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের যেকোনো উপায়ে আটক রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব এ অভিযোগ করেন। দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুর সই করা বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু গতকাল (গত শুক্রবার) জামিনে মুক্তি পান।
জামিনে বের হওয়ার পরপরই কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার ফটক থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে আবার গ্রেপ্তার করে রমনা থানায় নিয়ে যান। শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ মীর সরফত আলী সপুকে রমনা থানা থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও ভালোভাবে চিকিৎসা না দিয়ে তড়িঘড়ি করে ফের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেন, সব মামলায় জামিন পেয়ে মীর সরফত আলী সপু মুক্তি পাওয়ার পর জেলগেট থেকে আবারও তাকে গ্রেপ্তার সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ।
মীর সরফত আলী সপুকে জেলগেট থেকে পুনরায় গ্রেপ্তার এবং তাকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলেও সুচিকিৎসা না দিয়ে তড়িঘড়ি করে আবার থানায় নেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানান মির্জা ফখরুল। পাশাপাশি মীর সরফত আলী সপুর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ারও দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে অবিলম্বে মীর সরফত আলী সপুর নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসা দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।
উল্লেখ্য, ,শারীরিকভাবে অসুস্থ হলে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে তাকে ঢাকার সেন্ট্রাল পুলিশ হাসপাতালে (সিপিএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে আবারও রমনা থানায় আনা হয় বলে জানান তার স্ত্রী আনজুমান আরা বেগম। তিনি বলেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা কলেজের সাবেক ভিপি সপু জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে থেকে গত শুক্রবার বিকেলে ফের গ্রেপ্তার করে রমনা থানা পুলিশ।
এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ধানমন্ডির শংকরস্থ বাসা থেকে সপুকে গ্রেপ্তার করে হাজারীবাগ থানা পুলিশ। আনজুমান আরা বেগম বলেন, সপু উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। তাকে নিয়মিত বিভিন্ন ওষুধ সেবন করতে হয়। কিন্তু মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর পর শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সপু। তিনি অবিলম্বে তার স্বামীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
