আলো ডেস্ক: রাজধানীর আদাবরে বিএনপি নেতা আবুল বাশারকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন দুই আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি এ আদেশ দেন। এ তথ্য দিয়ে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শফিকুল ইসলাম বলেন, আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এ মামলার বিষয়ে পুলিশকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আসামিদের জামিনের বিষয়ে শুনানি হবে। কারাগারে যাওয়া দুই আসামি হলেন- সোয়েব হোসেন সোয়াইব ও মো. কবির। বৃহস্পতিবার আদাবরের নবোদয় হাউজিং থেকে তাদের আটক করা হয়। এ দিন আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার এসআই হাফিজুর রহমান। আবেদনে বলা হয়, আসামিরা এই হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত আছে বলে প্রাথমিক তদন্তে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তাদের সম্পর্কে আরও গভীর ও নিবিড়ভাবে তদন্ত অব্যাহত আছে। তদন্তে যদি আসামিরা হত্যাকা-ে জড়িত আছে মর্মে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে ওই হত্যা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হবে। তদন্ত সমাপ্ত, নাম ঠিকানা যাচাই ও বাদীর এজাহার না পাওয়া পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবী মাহবুব আলম জামিন চেয়ে প্রার্থনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ আসে। গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নবোদয় বাজার এলাকায় সালিশ বৈঠক চলাকালে বিএনপির আদাবর থানা ইউনিটের সভাপতি মো. সাদ্দাম ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার বাদশাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তাদের মধ্যে আবুল বাসার বাদশাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সাদ্দাম শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ বলছে, চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে খেলা দেখা ও ব্রাজিলের জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ হত্যাকা- ঘটেছে।
