ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি
খাবার কেনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা নগরী রাজশাহী’তে একই মালিকানাধীন দুইটি রেস্তোরায় হামলা, ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। গত শুক্রবার রাত্রি পৌনে ১১ টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর এলাকায় অবস্থিত ‘বাংলা টিফিন’ মন্ডলের মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘বঙ্গভোজ’ রেস্তোরায় এই হামলা চালানো হয়। এই হামলার সময় দুর্বৃত্তদের হাতে লাঠি, ছুরি, রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। এই ঘটনায় মতিহার থানার কনস্টেবল ফয়েজ আহমেদ আহত হন। রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গাজীউর রহমান জানান, এই হামলার নেতৃত্ব দেওয়া রমজান আলী জামায়াতের স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এই ঘটনায় মতিহার থানায় মামলা হয়েছে। রেস্তোরা দুটির মালিক মোর্শেদ শাকিল দাবি করেন, রমজান আলী ছাত্রশিবিরের স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার নেতৃত্বেই আমার দুইটি রেস্তোরায় হামলা, ভাঙচুর, করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র থেকে আমাদের প্রতিবেদক জানতে পারেন যে, গত শুক্রবার রাত্রি সাড়ে ৯ টার দিকে বিনোদপুর বাজারের ‘বাংলা টিফিন’ রেস্তোরায় খাবার কিনতে আসেন রমজান আলী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। খাবার সরবরাহে কিছুটা সময় লাগবে জানানো হলে রেস্তোরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার বাগবিতন্ডা শুরু হয়। ইহার কিছুক্ষণ পর রমজানের অনুসারীরা লাঠি, ছুরি, চাপাতি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিনোদপুর বাজারে অবস্থিত ‘বাংলা টিফিন’ মন্ডলের মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘বঙ্গভোজ’ রেস্তোরায় হামলা, ভাঙচুর করে। এই সময় ৪টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ৩০-৪০ জনের একটি দল লাঠিসোটা-ইটপাটকেল নিয়ে রেস্তোরা দুইটি ভাঙচুর করে। মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবীর বলেন, রমজান আলী নামে এক ব্যক্তি ‘ বাংলা টিফিন’ রেস্তোরায় খাবার কিনতে যান। তাকে এক প্যাকেট খাবার দেওয়া হলেও আরেকটি প্যাকেট প্রস্তুত করতে ২০ মিনিট সময় লাগবে বলে জানানো হয়।এই নিয়ে উত্তেজনা শুরু হয়। পরে মতিহার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্ঠা করে। তবে ইহার আগে একদল লোক বাংলা টিফিন – বঙ্গভোজ রেস্তোরায় হামলা করে চলে যায়। এই ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার দুপুর ১২ টার দিকে সাহেববাজার জিরো পয়েণ্টে মানববন্ধন করেন রাজশাহী মহানগর রেস্তোরা মালিকরা। মহানগর রেস্তোরা মালিক সমিতির সভাপতি রিয়াজ আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মানববন্ধনে এই মহানগরীর সব রেস্তোরা মালিকরা অংশগ্রহণ করেন।
