ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে উত্তাল রাজশাহী
স্টাফ রিপোর্টার
ইসরায়েল কর্তৃক ফিলিস্তিনে মুসল্লীদের ওপর নৃশংস গণহত্যা, বর্বোরচিত হামলার প্রতিবাদ ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে রাজশাহীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়েছে।
সোমবার (৭ মার্চ) সকাল থেকে নগরজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহনে এ কর্মসূচী পালন করা হয়। বিক্ষোভ শেষে ফিলিস্তিনিদের জন্য দোয়ার আয়োজন করা হয়।
সকাল থেকে পৃথকভাবে এ আন্দোলনে অংশ নেয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী মুহাম্মদীয়া যুব সুন্নীর শিক্ষক, কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রী সহ মুসুল্লিরা। এছাড়াও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি রাজশাহী ইউনিট মানববন্ধন করেছে।
বিক্ষোভ ও সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, অবিলম্বে গাজায় গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। ইসরায়েলকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে গণহত্যার দায়ে মুছে ফেলার আহ্বানও জানান তারা। তারা আরও বলেন, আমেরিকার মতো যেসব দেশ এমন গণহত্যা দেখেও নিশ্চুপ, তাদের বয়কট করতে হবে। পাশাপাশি মুসলিম দেশগুলো নীরবে গণহত্যার সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। অবিলম্বে মুসলিম দেশগুলোকে এককাতারে এসে এ গণহত্যার প্রতিবাদের আহ্বান জানান আন্দোলনকারীরা।
এদিকে গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত বরবর আগ্রাসন ও হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে এবং গাজার জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৭ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় ক্যাম্পাসের প্যারিস রোডে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভিন্ন বিভাগ ও ইনিস্টিউটের শিক্ষার্থীরা ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে এই কর্মসূচি পালন করেন।এ সম
য় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বলেন, অনতিবিলম্বে মার্কিন মদদে গাজায় চলমান গণহত্যার প্রতিবাদে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিন্দা জানাতে হবে এবং বৈশ্বিক পরিমন্ডলে ফিলিস্তিনের পক্ষে জনমত গঠন ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে, আমেরিকান হাই কমিশনারকে তলব করে গণহত্যায় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা করার জবাবদিহি চাইতে হবে, কালবিলম্ব না করে পাসপোর্টে পুনরায় “এক্সেপ্ট ইজরাইল” কথাটি ফিরিয়ে আনতে হবে এবং ইজরাইলি পণ্যগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বয়কট করতে হবে এবং তাদের দোসরদের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। এছাড়া রাজশাহী গোদাগাড়ীতে গাজায় ইসরায়েলের নৃশংস হামলার প্রতিবাদে ও মজলুম ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
৭ এপ্রিল (সোমবার) আসরের নামাজের পর মহিশালবাড়ী থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে থানা রোড প্রদক্ষিণ শেষে গোদাগাড়ী গোল চত্বরে গিয়ে সমাবেশে পরিণত হয়। এতে স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম, জামায়াত নেতাকর্মী এবং সাধারণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “ইসরায়েলি বরবরতা বিশ্ব বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। গাজায় শিশু, নারী ও নিরীহ মানুষের ওপর গণহত্যা চালিয়ে মানবতাকে অপমান করছে দখলদার ইসরায়েল।” তারা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনেন এবং বিশ্ব মুসলিমকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
মিছিলে “নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার”, “বিশ্বের মুসলিম এক হও”, “ফিলিস্তিন মুক্ত হোক”, “ইসরায়েল টেরোরিস্ট স্টেট” “ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন”, “নো কিলিং চিল্ড্রেন”, “স্ট্যান্ড উইথ গাজা”—এই সব শ্লোগানে রাজপথ মুখরিত হয়ে ওঠে। যুবকদের হাতে ছিল নানা প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড।
সমাবেশ থেকে গাজাবাসীর ডাকা বিশ্বব্যাপী হরতালের প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হয়। ওইদিন হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী গাজা থেকে ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’ চালায়। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল শুরু করে ‘অপারেশন আয়রন সোর্ডস’। এ যুদ্ধকে ১৯৭৩ সালের পর সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর আগে দেশজুড়ে সকল প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে সোমবার দিনব্যাপী আন্দোলনে রাজপথে নামেন দেশের মুসল্লীরা।
