স্টাফ রিপোর্টার: কাঠমিস্ত্রীর কাজের ফাঁকে পড়াশোনা করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রথমবর্ষ ভর্তি পরীক্ষায় ‘বি’ ইউনিটে প্রথম হয়েছেন মোস্তাকিম আলী। অদম্য পরিশ্রমী ও মেধাবী এই শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় আরএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা জানানো হয়।
মোস্তাকিম আলী রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাঁধাইড় মিশনপাড়া গ্রামের সামাউন আলীর ছেলে। অনুষ্ঠানে আরএমপি কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক শিক্ষার্থী মোস্তাকিম আলীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। সেই সাথে শিক্ষা উপকরণ কেনার জন্য আর্থিক সহায়তাও দেন আরএমপি কমিশনার।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার লক্ষে এগিয়ে যাচ্ছেন। সেই লক্ষ অর্জনে মোস্তাকিমের মতো তরুণ মেধাবীদের এগিয়ে আসতে হবে। তাই তাঁদের মেধাবীদের মেধা বিকাশে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে পৃষ্ঠোপোষকতা করতে হবে। তবেই বাংলাদেশ উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে। যেকোন মেধাবীদের প্রয়োজনে আরএমপি সব সময় পাশে থাকবে বলেও জনান তিনি।
পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে সংবর্ধনা পেয়ে মোস্তাকিম আলী বলেন, পুলিশ কমিশনার আমার মতো ছেলেকে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এনে সংবর্ধনা দিয়ে সম্মানিত করেছেন। এই সংবর্ধনা আমাকে ভবিষ্যতে দেশের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা যোগাবে। ভবিষ্যতে তাঁর পাশে থাকার কথা ব্যক্ত করায় পুলিশ কমিশনারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
মোস্তফা আলী দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড়। তাঁর বাবা পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রী। মোস্তাকিম প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেই বাবার পেশায় যুক্ত হন। দিনে কাঠমিস্ত্রীর কাজ, রাতে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি। মোস্তাকিম মুন্ডুমালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে জিপিএ-৪.৫৫ নিয়ে মাধ্যমিক এবং ফজর আলী মোল্লা ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২০ সালে জিপিএ-৪.৮৩ পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হন। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদিনা ফজলুল হক ডিগ্রি কলেজে ইংরেজি বিষয়ে অনার্সে ভর্তি হয়।
পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আকাঙ্খা থেকে এইচএসসিতে পুনরায় মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেন এবং রাবির ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। প্রস্তুতির জন্য ভর্তি পরীক্ষার ১৫ দিন আগে বাবার কাছ থেকে কাঠমিস্ত্রীর কাজ থেকে ছুটি নেন। পরীক্ষায় তিনি ‘বি’ ইউনিটের গ্রুপ-৩ এ ৮০ দশমিক ৩০ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন।
