বাঘা প্রতিনিধি
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলখ্যাত ৭ নম্বর চকরাজাপুর ইউনিয়নে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে নবনির্মিত পুলিশ ফাঁড়ির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার(১১ জুলাই) চকরাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরও ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে চরাঞ্চলের মানুষ নানা ধরনের অপরাধ ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়েছে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও হত্যাকা-সহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে এই পুলিশ ফাঁড়ি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, দলের পরিচয় নয়-অপরাধই হবে বিচারে্যর বিষয়। অপরাধী যে-ই হোক, কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই দুর্গম এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে, যাতে দ্রুত ও কার্যকর পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা যায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান, পিপিএম (বার) বলেন, আইনের চোখে সবাই সমান। অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি জনগণকেও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে চরাঞ্চলকে অপরাধমুক্ত করা সম্ভব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার, চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস, চারঘাট-বাঘা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. খালেদ হোসেন, বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম, চারঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল মালেক, বাঘা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম বাবুল, সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম মলিন, বাঘা পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল লতিব, চকরাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জগলু শিকদার, রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামীম সরকারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও চরাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন এই পুলিশ ফাঁড়ি চালুর মাধ্যমে চরাঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে, অপরাধ কমবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ও স্বস্তি ফিরে আসবে।
