গোদাগাড়ী প্রতিনিধি
গোদাগাড়ীতে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর বাধায় বন্ধ উন্নয়ন কাজ
রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভায় প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে টেকসই ও মানসম্মত সড়কের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা নির্মাণকাজে বাধা দিলে বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে।
জানা গেছে, গোদাগাড়ী থানা থেকে গাঙ্গোবাড়ী পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত ড্রেন, সড়ক ও একটি সেতু নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এলিজা এন্টারপ্রাইজ। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে কাচারীপাড়া হারুনের মিল থেকে গাঙ্গোবাড়ী পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত অংশে নির্মাণকাজ চলছিল। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের নির্ধারিত সিডিউল অনুসরণ না করে নিম্নমানের ইটের খোয়া (রাবিশ) ও মাটি ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ করা হচ্ছে।
রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে গোদাগাড়ী পৌরসভার সুলতানগঞ্জ এলাকায় স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেন। তাদের দাবি, এভাবে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মিত সড়ক কয়েক মাসও টিকবে না এবং সরকারি অর্থের অপচয় হবে।
গাঙ্গোবাড়ী এলাকার বাসিন্দা জামিল আহমেদ বলেন, সড়কের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হচ্ছে এবং নির্মাণে প্রয়োজনীয় মানদ- অনুসরণ করা হচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, কাজের যথাযথ তদারকিতে পৌরসভার কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।
অলকার মোড় এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, নতুন রাস্তার চেয়ে আগের সড়কই ভালো ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, সিডিউল অনুযায়ী বালি ও উন্নতমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে মাটি ও নিম্নমানের রাবিশ দিয়ে রাস্তা ভরাট করা হচ্ছে। এতে প্রথম বর্ষাতেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উন্নয়ন কাজের নামে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। সঠিক নিয়মে ও মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করে পুনরায় কাজ শুরু না হলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত সচিব ও সহকারী প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান মুকুল অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, নির্মাণকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, স্থানীয়দের ক্ষোভ ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি যৌক্তিক। ইতোমধ্যে ঠিকাদারকে সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনোভাবেই নিয়মবহির্ভূত বা নিম্নমানের কাজ বরদাশত করা হবে না।
এদিকে পৌরবাসীর দাবি, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করে নির্ধারিত মান বজায় রেখে নির্মাণকাজ শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তাঁদের মতে, জনগণের করের অর্থে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে
