গোদাগাড়ী প্রতিনিধি
রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাঞ্চল্য: যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির পরোয়ানা এক বছরেও পৌঁছায়নি, ঘুষের অভিযোগ রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে পাঠানো একটি যাবজ্জীবন কারাদ-ের সাজা পরোয়ানা রহস্যজনকভাবে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে গন্তব্যে না পৌঁছানোর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অর্থের বিনিময়ে পরোয়ানাটি ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি সুমন রেজার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার গঙ্গারামপুর গ্রামে। তিনি মাদক ও জাল রুপির কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৮টি মামলা রয়েছে। বর্তমানে রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও দামকুড়া থানার দুটি বিচারাধীন মামলায় তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার আল-মামুন জানান, সুমন রেজা বর্তমানে কারাগারে থাকলেও তাঁর যাবজ্জীবন সাজা সংক্রান্ত কোনো পরোয়ানা কারাগর কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছেনি।
তদন্তে জানা গেছে, ২০২২ সালে রাজশাহী নগরের বুলনপুর এলাকা থেকে ৫০ গ্রাম হেরোইনসহ সুমন রেজা ও সুমন আলী নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তারা পলাতক হন। তাদের অনুপস্থিতিতেই ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর আদালত উভয়কে যাবজ্জীবন কারাদ- দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৮ এপ্রিল আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর রহমান দুই আসামির সাজা পরোয়ানা আরএমপির আদালত পরিদর্শকের কার্যালয়ে পাঠান। নিয়ম অনুযায়ী সেখান থেকে তা প্রসিকিউশন শাখা হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং পরে শিবগঞ্জ থানায় পৌঁছানোর কথা ছিল।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আরএমপির আদালত পরিদর্শক আবদুর রফিকের কার্যালয়েই সুমন রেজার পরোয়ানাটি আটকে যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অর্থের বিনিময়ে এই পরোয়ানা গোপন রাখা হয়েছে।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে আদালত পরিদর্শক আবদুর রফিক বলেন, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ওয়ারেন্ট আসে। নির্দিষ্ট ওয়ারেন্টের কপি ছাড়া তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারবেন না।
অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অপরাধ শাখার পরিদর্শক মুজিবুর রহমান জানান, আরএমপি থেকে তাঁরা শুধুমাত্র সুমন আলীর সাজা পরোয়ানা পেয়েছিলেন। সেটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় শিবগঞ্জ থানায় পৌঁছায়। কিন্তু একই মামলার অপর আসামি সুমন রেজার পরোয়ানা কখনোই তাঁদের কাছে আসেনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) একরামুল হক বলেন, বিষয়টি তাঁরা জেনেছেন এবং খোঁজখবর নিয়েছেন। সুমন রেজা অন্য মামলায় কারাগারে থাকলেও সাজা পরোয়ানা না থাকায় তাঁকে ওই যাবজ্জীবন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে আরএমপির মুখপাত্র ও প্রসিকিউশন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপকমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, কীভাবে সাজা পরোয়ানাটি মাঝপথে হারিয়ে গেল বা আটকে রইল, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, পরোয়ানা ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে এটি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, বরং বিচার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
