বাঘা প্রতিনিধি
সরকারি কর্মকর্তাদের প্রথম শপথ সংবিধান ও আইন মেনে সততার সঙ্গে জনসেবা করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা। কিন্তু রাজশাহীর বাঘা পৌরসভায় কোটি কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযতেœ পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে পৌর কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খোলা আকাশের নিচে পড়ে রয়েছে কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ। অউই, অঋউ ও ওটএওচ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে কেনা ‘পৌর-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ ও ‘পানি সরবরাহ’-এর ঝটঘণ ব্র্যান্ডের ট্যাঙ্কারগুলো পৌর প্রশাসকের (উপজেলা নির্বাহী অফিসার) কার্যালয়ের অদূরে উপজেলা মডেল মসজিদ সংলগ্ন খোলা মাঠে পড়ে আছে। এছাড়া পৌরসভার আঙিনাতেও পড়ে রয়েছে শতাধিক যানবাহন।
দীর্ঘদিন ধরে এসব যানবাহন পড়ে থাকায় সেগুলোতে আগাছা জন্মেছে। রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে অনেক গাড়ির বডিতে জং ধরেছে এবং রঙ নষ্ট হয়ে গেছে। ইঞ্জিনও বিকল হওয়ার পথে। দেখে মনে হবে, মূল্যবান এসব যানবাহন যেন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পৌর কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট হলেও তা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিকরা।
সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কেনা এসব যানবাহন নাগরিক সেবায় ব্যবহারের পরিবর্তে অযতেœ ফেলে রাখায় রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারি সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে নাগরিকরাও কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
নাগরিকদের দাবি, পৌরসভায় নাগরিক সেবার মান বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে কোটি কোটি টাকার যানবাহন দেওয়া হয়েছে। অথচ সেসব যানবাহন দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত নষ্ট যানবাহনগুলো মেরামত করে নাগরিক সেবায় যুক্ত করার পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) তাজুল ইসলাম এবং মিউনিসিপল ইঞ্জিনিয়ার আল আমিন বলেন, পৌরসভায় জনবলের অভাব রয়েছে। তাছাড়া গাড়িগুলো ব্যবহার করার মতো পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। তাই গাড়িগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে না। তবে খুব শিগগিরই সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অঃদাঃ) ও পৌর প্রশাসক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘আমি বিষয়টি অবগত হলাম। বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে এডিএম রাজশাহী ও ডিডিএলজি (অঃদাঃ) উম্মে কুলসুম সম্পার সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি জরুরি মিটিংয়ে আছি, দুই ঘণ্টা পরে ফোন দেন।’ পরে সোমবার (১০ আগস্ট) পর্যন্ত তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সালের ২৪ জুন বাঘা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে তৃতীয় শ্রেণির পৌরসভা থাকলেও ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২ জুলাই এটি ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। বর্তমানে এটি ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত অর্থাৎ প্রথম শ্রেণির পৌরসভা।
পৌরসভা প্রতিষ্ঠার সময় নাগরিকদের মাঝে উন্নত নাগরিক সেবা পাওয়ার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বর্তমানে নানা দুর্ভোগ ও সেবার সীমাবদ্ধতায় তা অনেকটাই হতাশায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
