স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহী মহানগরীর বিলশিমলা এলাকায় জমি অধিগ্রহণের পর অবশিষ্ট মাত্র হাফ শতাংশ জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে চারতলা ভবন। নামমাত্র ভিতের ওপর নির্মাণাধীন এই বহুতল ভবনটিকে ঘিরে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন আশপাশের বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপযুক্ত কোনো অনুমোদন ছাড়া এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা তোয়াক্কা না করেই ভবনটি তোলা হয়েছে।
নগরীর নতুন বিলশিমলা এলাকার ‘রাইসা প্লাজা’র পাশে নির্মিত এই ভবনের মালিক মৃত শহিদুর রহমানের ছেলে মমিন, রবিন ড্রাইভার এবং রবিউল ইসলাম নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা।
আশপাশের বহুতল ভবনের মালিকদের দাবি, অতি অল্প জায়গায় পর্যাপ্ত ভিত না দিয়ে ভবনটি তৈরি করায় এটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। এতে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা থেকে যায়।
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ইমারত নির্মাণ বিধিমালার মূল উদ্দেশ্য শহরের পরিকল্পিত উন্নয়ন ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তবে সচেতন মহলের মতে, অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে আরডিএ ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (আরসিসি)। কোনো অনুমোদিত নকশা ছাড়া কিংবা নকশার শর্ত ভঙ্গ করে ভবন নির্মাণের প্রবণতা নগরীতে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
রুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল ওয়াকিল এ প্রসঙ্গে বলেন, “শুধু নোটিশ জারি ও মামলা দিয়ে এই অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব নয়। আরডিএকে মাঠ পর্যায়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে আরও কঠোর হতে হবে। নিয়মবহির্ভূত অংশ ভেঙে দিতে এবং নতুন অনিয়ম ঠেকাতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।”
অভিযোগের বিষয়ে ভবনের অন্যতম মালিক মমিন দাম্ভিকতার সুরে বলেন, “রাজশাহীতে এমন ভবন তো আরও অনেকেই করেছে, আমি একা করিনি। আরডিএ থেকে আমাদের চিঠি দিয়েচে ভেঙ্গে ফেলার জন্য , আমরা আরডিএ’র বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আরডিএর ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আবদুল্লাহ আল তারিক জানান, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন।
তিনি বলেন, “গত পাঁচ বছরে দেড় শতাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১৪০টি ভবনের অবৈধ বর্ধিত অংশ অপসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে কিছু ভবনের বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
