স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীর খ্রিষ্টিয়ান মিশন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জন্ম নেওয়া চার নবজাতকেরই মৃত্যু হয়েছে। গত ১১ আগস্ট জন্ম নেওয়া তিন ছেলে ও এক মেয়েকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক দিনের ব্যবধানে তাদের মৃত্যু হয়।
চার নবজাতকের বাবা নাজমুস সাকিব ও মা শার্লি মেহেবুবা হক। পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, ছয় বছরের অপেক্ষার পর গত ১১ আগস্ট একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চার শিশুরই জন্ম হয় নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ছেলে শিশুটির জন্ম হয় দুপুর ১২টা ৩৩ মিনিটে। তার ওজন ছিল ১ কেজি ২০০ গ্রাম। দুপুর ১টা ৬ মিনিটে জন্ম নেয় একমাত্র মেয়ে, যার ওজন ১ কেজি। এরপর দুপুর ১টা ৩৪ মিনিটে তৃতীয় সন্তান হিসেবে আরেক ছেলে জন্ম নেয়। তার ওজন ছিল ১ কেজি ৩০০ গ্রাম। সর্বশেষ দুপুর ১টা ৩৯ মিনিটে জন্ম নেয় চতুর্থ ছেলে। তার ওজন ছিল ৯০০ গ্রাম।
জন্মের পর চার নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে চার শিশুর মৃত্যু হয়। পরে তাদের রাজশাহীর হেঁতেম খাঁ গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২ হাজার ৫০০ গ্রামের কম ওজনের শিশুকে কম জন্ম ওজনের (লো বার্থ ওয়েট) শিশু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে শুধু জন্মের ওজনের ভিত্তিতে শিশুদের পূর্ণমেয়াদি ছিল কি না, তা নির্ধারণ করা যায় না। এ ক্ষেত্রে মায়ের গর্ভকালসহ চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রয়োজন।
নাজমুস সাকিব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কর্মরত। শার্লি মেহেবুবা হক গৃহিণী। বর্তমানে তারা রাজশাহী নগরীতে বসবাস করলেও তাঁদের গ্রামের বাড়ি নাটোরের লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া এলাকায়।
