রাজশাহীর আলোঃ- স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীর দূর্গাপুরে দাওকান্দি সরকারী অনার্স কলেজে সরকারী নিয়ম-নীতি বহির্ভূত করে জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে কলেজের নিজস্ব সম্পত্তি অধ্যক্ষ কর্তৃক টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
জানাগেছে, দূর্গাপুর উপজেলার ব্রহ্মপুর গ্রামে দাওকান্দি সরকারী অনার্স কলেজের নিজ নামীয় ৭০ শতাংশ ধানী জমি আছে। যাহা নিজের ইচ্ছায় ফসলি জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে অধিক মুনাফার লোভে দাওকান্দি সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক শরিফুল ইসলামকে গত ২০/০২/২০২১ ইংরেজি তারিখে খগ-৬৮৫৮১৩৫ নং নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত ইজারা চুক্তিপত্রের মাধ্যমে প্রতি বিঘা ২৫ হাজার টাকা দরে ৫ বছরের জন্য পুকুর খায়খালাসী টেন্ডার চুক্তিপত্র দলিল মূলে হস্তান্তর করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় শরিফুল ইসলাম গত ১৬/০৯/২০২১ ইং তারিখ জিয়াউর রহমানকে প্রতিবিঘা ৩৫ হাজার টাকা দরে ৫ বছরের জন্য পুকুর লিজ প্রদান করেন এবং একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা লিখে দেন। তবে উক্ত পুকুর টেন্ডার বিষয়ে বিজ্ঞাপন বা কোন নোটিশ পাওয়া যায় নাই এব্যাপারে পুকুর লিজ দাতা শরিফুল ইসলামের সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, আমাকে দাওকান্দি সরকারী অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক ৫ বছরের জন্য পুকুর লিজ দিয়েছে।
আমি জিয়াউর রহমানের কাছে ৫ বছরের জন্য পুকুর খাইখালাসি টেন্ডার দিয়েছি। কলেজ অধ্যক্ষ ইজারা চুক্তিপত্র দলিল এর মাধ্যমে ইজারা প্রদানের বিষয়ে শরিফুল ইসলামের কাছে কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি কাগজপত্র দেখাতে অপারগতা স্বীকার করেন এবং তিনি বলেন আমি জিয়াউর রহমানকে দাওকান্দি সরকারী কলেজের সম্পত্তি টেন্ডার দিয়েছি কিন্তু কোন নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে দেই নাই।
এব্যাপারে দাওকান্দি সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হকে’র সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, এটা দাওকান্দি সরকারী কলেজের সম্পত্তি আর দাওকান্দি সরকারী কলেজের সভাপতি হচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। আমি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহাসিন মৃধা’র কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়ে প্রতি বিঘা ২৫ হাজার টাকা হারে ৫ বছরের জন্য শরিফুল ইসলামকে ইজারা প্রদান করেছি। বর্তমানে পুকুর বলে লিজ প্রদান করা হয়েছে এবং টেন্ডার কমিটির মাধ্যমে প্রকাশ্যে দিবালোকে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। টেন্ডারের সমুদয় টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিয়ে ইজারা দেওয়া হয়েছে।
দূর্গাপুরের দাওকান্দি সরকারী কলেজের সম্পত্তি টেন্ডার বিষয়ে জানতে চেয়ে মহাসিন মৃধা’কে মুঠোফোনে (০১৭৮০-২০০২০৯) নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ না করে কেটে দেন।
এব্যাপারে দূর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল রানা’র সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, যদি কলেজে কোন সমস্যা হয় তাহলে কলেজ কমিটি এবং সভাপতি এর দায়ভার গ্রহণ করবে। দাওকান্দি সরকারী কলেজের পুকুর টেন্ডারের বিষয়ে তিনি বলেন যেহেতু এটা সরকারী অনার্স কলেজ আর এই সম্পত্তি কলেজের নিজস্ব সম্পত্তি। সেহেতু রেজুলেশন ছাড়া বাইরে কোনো কিছুই করা সম্ভব নয়। আর যদি করে থাকে তাহলে সেটা সঠিক নয়।
