আলো ডেস্ক: রাজধানী ঢাকায় অনলাইন মাধ্যমে কেনাকাটা করে ৫১ শতাংশ গ্রাহক স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। স্বস্তিতে থাকা ক্রেতাদের মধ্যে ৬২ শতাংশ নারী ও ৪৩ শতাংশ পুরুষ। ফলে অনলাইন কেনাকাটায় পুরুষের চেয়ে নারীরা অধিক সন্তুষ্ট। তবে বাকি ৪৯ শতাংশ গ্রাহক অনলাইনে পণ্য কিনতে অস্বস্তিবোধ করেন।
গত ১১ ডিসেম্বর গবেষণা প্ল্যাটফরম রিসার্চগেটে প্রকাশিত ‘ফ্যাক্টরস ডিটারমিনিং স্যাটিসফেকশন অব অনলাইন কাস্টমারস ইন ঢাকা সিটি, বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি গবেষণা নিবন্ধ থেকে এসব তথ্য জানা যায়। গবেষণাটি ‘জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি জার্নাল অব বিজনেস রিসার্চের’ ২২ নম্বর ভলিয়ু্যমে অন্তভুর্ক্ত। গবেষণাটি পরিচালনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) অধ্যাপক এস এম ইখতিয়ার আলম।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, অনলাইনে কেনাকাটায় ৯টি সূচক গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলো হলো—প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পণ্য দেওয়া, সশরীরে কেনাকাটার সঙ্গে অনলাইনে দামের সামঞ্জস্য, পণ্যের লিখিত ও দৃশ্যমান বিবরণ, গ্রাহক সেবা ও সমস্যা সমাধান, সময়মতো পৌঁছানো, ডেলিভারি মূল্য, দ্রব্য বা অর্থ ফেরত নীতিমালা, বিক্রেতা ও ডেলিভারি ম্যানের আচরণ এবং পণ্যের ওয়ারেন্টি সেবা গ্রহীতাদের সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি নির্ধারণে নিয়ামক ভূমিকা পালন করে। এর মধ্যে, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পণ্য দেওয়ার সূচকটির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। এরপর দামের সামঞ্জস্য এবং পণ্যের দৃশ্যমান ও লিখিত বিবরণী সূচক দুটি ভূমিকা রাখে।
গবেষণায় আরো বলা হয়, ঢাকায় অনলাইন কেনাকাটায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পণ্য পায় ২২.৪৫ শতাংশ, গ্রহণযোগ্য মূল্যে কেনাকাটা করে ১৬ শতাংশ এবং বিবরণ অনুযায়ী পণ্য পায় ১৪ শতাংশ অনলাইন ক্রেতা। এতে উল্লেখ করা হয়, সময়ের স্বল্পতা, অবস্হানগত সুবিধা এবং পণ্যের প্রকরণ ও ভিন্নতা এই তিনটি কারণে মানুষ অনলাইনে কেনাকাটা করে। গত পাঁচ বছরে অনলাইনে কেনাকাটা বহু গুণ বেড়েছে।
দেশে বর্তমানে ৬ হাজারের বেশি ‘সেলার রেটিংসহ’ সক্রিয় অনলাইন সাইট রয়েছে। জানা যায়, বিভিন্ন বয়স, পেশা ও আর্থসামাজিক অবস্হান থেকে উঠে আসা ক্রেতাদের ওপর জরিপ করে গবেষণা নিবন্ধটি পরিচালনা করা হয়। যারা কমপক্ষে এক বছর অনলাইনে কেনাকাটা করেছেন, এমন ১ হাজার ৫৬০ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তাদের মধ্যে ৯৩৬ জন পুরুষ ও ৬২৬ জন নারী। তবে গবেষণায় শুধু নন-ফুড পণ্য দ্রব্যকে বিবেচনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে অধ্যাপক এস এম ইখতিয়ার আলম বলেন, বিদেশে অনলাইন ব্যবস্হার সুফল দেখে দেশে একের পর এক অনলাইন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। তবে অনেকে পণ্য বিক্রির নামে প্রতারণা করছে।
