আলো সা রা দে শ ডেস্ক: নিখোঁজের ২৬ দিন পর তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আবু হুরায়রার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত রোববার রাত আড়াইটার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের তালতলা গ্রামের গোরস্তানের পুরাতন একটি কবর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে মোমিনের স্বীকারোক্তিতে এ লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় নিয়েছে। ওই শিশুর পরিবারের কাছে মুক্তিপণ বাবদ ২৯ জানুয়ারি চিরকুট দিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করে অভিযুক্তরা।
১ ফেব্রুয়ারি এসএমএস দিয়ে পুনরায় চাঁদা দাবি করে।
পরের দিন স্কুলছাত্রের পরিবার মুক্তিপণ বাবদ ৫ লাখ টাকা দিতে চাইলে তারা ১০ লাখ টাকা দাবি করে। ৩ ফেব্রুয়ারি তারা আবার একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন দিয়ে চাঁদা চায়। ৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তিপণের জন্য ৬ লাখ টাকা দাবি করে অভিযুক্তরা। চিরকুট ও মোবাইল ফোন নম্বর স্কুলছাত্রের পরিবার পুলিশকে দেয়।
পুলিশ প্রযুক্তির সাহায্যে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে মোমিনকে আটক করলে হত্যা রহস্য উদঘাটন হয়। তালতলা গ্রামের গোরস্তান পাড়ার আবদুল বারেকের ছেলে আবু হুরায়রা (১১) চুয়াডাঙ্গা ভি জে সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্র। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মোহাম্মদ মহাসিন বলেন, ২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি আবু হুরায়রার নিজ বাড়ি থেকে একই গ্রামের শিক্ষক রঞ্জুর কাছে বিকেলে প্রাইভেট পড়তে যায়।
এরপর থেকে সে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের দিন স্কুলছাত্রের বাবা চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন। ২৬ জানুয়ারি আবু হুরায়রার বাবা বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় পুলিশ দুই জনকে গ্রেপ্তার করে। ওসি বলেন, গত রোববার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ তালতলা গ্রামের গোরস্তানপাড়া থেকে শহিদুল ইসলামের ছেলে মোমিনকে আটক করে থানায় নেয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে আবু হুরায়রারকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ গ্রামের গোরস্তানের একটি পুরাতন কবর খুঁড়ে গুম করার কথা স্বীকার করে। ৬ বোনের একমাত্র ছোট ভাই ছিল আবু হুরায়রার। সন্তান হারানোর শোকে পাগলপ্রায় পরিবারের সদস্যরা।
