আলো ডেস্ক: জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলায় দেওয়া ভাষণকে বিশ্বের বুকে এক যুগান্তকারী ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ বাঙালি জাতির অহংকার। বাংলাদেশ ও বাঙালির জন্য অত্যন্ত গৌরব ও গর্বের দিন। সারা পৃথিবীর বাংলা ভাষাভাষি মানুষের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন আজ (গতকাল শনিবার)। গতকাল শনিবার জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিয়ে বিএসএমএমইউয়ের এ ব্লক অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৭৪ সালের আজকের দিনটি (গতকাল শনিবার) নিঃসন্দেহে বিশ্বের বুকে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। কারণ এ দিনে জাতিসংঘে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বপ্রথম বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন। বাঙালির জন্য এটা এক পরম পাওয়া।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমন ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছিলেন, বঙ্গবন্ধুও সম্পূর্ণ বাংলা ভাষাভিত্তিক একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং জাতিসংঘের সদস্যপদ অর্জনের পর সেখানে বাংলা ভাষণ দেওয়ার মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে আরও সুউচ্চ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছিলেন। তিনি বলেন, এ কারণে আজকের দিনটি শুধু বাংলাদেশের জন্যই গর্বের নয়, পৃথিবীর বাংলা সব ভাষাভাষির জন্য অত্যন্ত গৌরবের। জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুকে প্রথমেই অনুরোধ করা হয়েছিল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি ইংরেজীতে বক্তৃতা করবেন”, কিন্তু প্রিয় মাতৃভাষা বাংলার প্রতি সুগভীর দরদ ও মমত্ববোধ থেকে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “আমি মাতৃভাষা বাংলায় বক্তৃতা করতে চাই”। উপাচার্য আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘে সর্বপ্রথম বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জাতিসংঘে ১৮ বার বাংলায় ভাষণ দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু যেমন বিশ্বের শোষিত মানুষের নেতা ছিলেন, শেখ হাসিনাও শোষিত মানুষের বিশ্ব নেতা।
এজন্য প্রধানমন্ত্রী ধনী-দরিদ্র সব দেশের মানুষকে সমানভাবে করোনাভাইরাসের টিকা নিশ্চিত করতে বলেছেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব মোহাম্মদ জমির স্মৃতিচারণমূলক ঘটনাবহুল দীর্ঘ বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধু শিশুদের প্রচ- ভালোবাসতেন। তিনি সবসময় দেশের কথা, মানুষের কথা ভাবতেন। পররাষ্ট্রনীতিতে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দূরদর্শী। বিশ্ব দরবারে বাংলা ভাষাকে পরিচিত করা এবং স্বাধীনতা পরবর্তী বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভে বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতি প্রধান ভূমিকা রেখেছে। বিএসএমএমইউয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল হান্নানের সঞ্চালনায় এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল, শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শাহিন আকতার, নার্সিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক ডা. মো. হারিসুল হক, পরিচালক (হাসপাতাল) বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. নজরুল ইসলাম খান, শিশু সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একেএম জাহিদ হোসেন, কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আরিফুল ইসলাম জোয়াদার টিটো প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
