আলো ডেস্ক: দুর্নীতির মামলায় ১০ বছরের দণ্ড নিয়ে গত শনিবার সন্ধ্যায় থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হাজী মোহাম্মদ সেলিম। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দেশে ফেরেন তিনি। ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের একান্ত সচিব মহিউদ্দিন মাহমুদ বেলাল এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, থাইল্যান্ডে চিকিৎসা শেষে দুপুর সোয়া ১২টায় থাই এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন সংসদ সদস্য হাজী সেলিম। এখন তিনি সুস্থ আছেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে একটা জানাজায় অংশ নিয়েছেন। আদালতের আত্মসমর্পণের বিষয়ে বেলাল বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যথাসময়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করবো। এর আগে গত শনিবার বিকেলে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে থাইল্যান্ড যান। গত সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করে হাজি সেলিমের ছোট ছেলে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিম বলেন, তার বাবা চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড গেছেন।
দুই-তিনদিনের মধ্যেই দেশে ফিরবেন। এরপর আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। দুর্নীতির মামলায় ১০ বছরের দণ্ড হওয়ার পরও কোন প্রক্রিয়ায় বিদেশ গেলেন এমন প্রশ্নে কোনো উত্তর দিতে পারেননি ইরফান সেলিম। তিনি বলেন, একটি টেলিভিশন চ্যানেল তার বাবার বিরুদ্ধে দেশ থেকে পালিয়েছেন বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এটা সঠিক নয়। বাবা ফিরে আসবেন। হাজি সেলিমের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, হাজি সেলিমের সফরসঙ্গী হিসেবে ঘনিষ্ঠ কেউকে নিয়ে যাননি।
তবে পৃথকভাবে তার ঘনিষ্ঠ কেউ থাইল্যান্ড গিয়ে থাকতে পারেন। হাজি সেলিমের বড় ছেলের নাম সোলাইমান সেলিম। তিনি গত রোববার একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, তার বাবা এখন দেশে নেই। এরপর থেকে বিষয়টি জানাজানি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকে তার বিদেশ সফরের বৈধতা এবং ইমিগ্রেশন পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। দুর্নীতির মামলায় এক যুগ আগে বিচারিক আদালতের রায়ে সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের ১৩ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল।
সাজার রায়ের বিরুদ্ধে হাজি সেলিম হাইকোর্টে আপিল করেন। এ আপিলের শুনানি নিয়ে গত বছরের ৯ মার্চ বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে হাজি সেলিমকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭-এ আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ সময়সীমার মধ্যেই আওয়ামী লীগের এ সংসদ সদস্য দেশ ছাড়েন।
এদিকে হাজী সেলিম আইন মেনেই বিদেশ গেছেন ও ফিরে এসেছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি (হাজী সেলিম) খুব ইমার্জেন্সি চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক গিয়েছিলেন। আবার ফেরত এসেছেন।
আইনগতভাবে যেটুকু প্রশ্ন আসে ও আমাদের হাইকোর্ট থেকে যে নির্দেশনা ছিল সেটি সামনে রেখেই তিনি গিয়েছিলেন। নিশ্চয়ই তিনি একজন সংসদ সদস্য ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইন মাথায় রেখেই তিনি গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আপনারা জানেন হাইকোর্টের রায় আছে, সেটি অফিসিয়ালি ইমপ্লিমেন্ট হওয়ার আগেই তিনি গেছেন, আবার চলে এসেছেন।
