আলো ডেস্ক: দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একগুচ্ছ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। জিয়াউর রহমানের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালনে দলের সম্পাদক, যুগ্ম মহাসচিব, ঢাকা মহানগরের নেতারা, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে যৌথসভা করবে বিএনপি।
এছাড়া কুমিল্লার চান্দিনায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনার প্রতিবাদে দুদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১২ মে ঢাকা মহানগর ও ১৪ মে জেলা উপজেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। এদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে আগামী ১৫ মে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য দলের চেয়ারপাসনের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হামলার প্রতিবাদে কর্মসূচি: বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে দুই দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। ফখরুল বলেন, কুমিল্লার দাউদকান্দিতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ওপর হামলা ও তার বাসভবনে সন্ত্রাসীরা আক্রমণ করেছে এবং পরে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে কুমিল্লার চান্দিনায় এলডিপির মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী ড. রেদোওয়ান আহমেদের গাড়িতে হামলা ও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাতক্ষীরা, নারাণয়গঞ্জ, নরসিংদীর পলাশ এবং ফেনীতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদিনের ওপর হামলা, পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরোধী দলের ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, এই হামলার ঘটনাগুলো থেকেই প্রমাণিত হয় যে, আওয়ামী লীগ একটি সন্ত্রাসী দল। সন্ত্রাস ও ত্রাস সৃষ্টি, হত্যা ও গুম-খুনের মাধ্যমেই বিরোধী দলকে নির্মূল করার জন্য ধারাবাহিকভাবে ওইসব ভয়াবহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে আওয়ামী লীগ। আগের মতোই নিজেরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে বিরোধীদলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে বিএনপির নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হতে দূরে রাখার হীন চক্রান্ত করছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, একদিকে এই অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের কথা বলছে অন্যদিকে হামলা, মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের হয়রানি ও কারাগারে নিক্ষেপ করে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পুনরায় ক্ষমতায় যেতে চায়।
তিনি বলেন, হামলার প্রতিবাদে ১২ মে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ এবং ১৪ মে সারাদেশে জেলা পর্যায়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, এবিএম মোশারফ হোসেন, আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি, মহানগর বিএনপি নেতা আমিনুল হক, রফিকুল আলম মজনু, যুবদলের সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল কাদির ভ‚ইয়া জুয়েল, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, শহীদুল ইসলাম বাবুল, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহিম, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন ওলামা দলের মাওলানা নেছারুল হক, ছাত্রদলের কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।
