আলো ডেস্ক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিলে বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের অবস্থা শ্রীলংকার মতো করবে না। গতকাল শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের নাম নিয়ে কী যায় আসে আগে ঐকমত্য হোন।
তারপর নাম রাখা যাবে। কারণ সন্তান ভ‚মিষ্ঠ হলে পরেও নাম রাখা যায়। তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য বাধা হলো শেখ হাসিনা ও তার সরকার। আমরা তার অধীনে নির্বাচনে যাবো না তবে যেনতেনভাবে আরেকটি নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। কারণ সেই সক্ষমতা তাদের নেই। জনতার শক্তির কাছে কোনো শক্তি টিকতে পারবে না। আসুন তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিন। আমরা বিশ্বাসযোগ্য আন্দোলন উপহার দিতে পারবো।
‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচন-সংকটের একমাত্র সমাধান’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমরা এখন ঐক্যের জন্য সংগ্রাম করছি। এরপর একটি লক্ষ্য আদায়ের জন্য হবে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী চরিত্র বিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে এক কাতারে নিয়ে এসেছে। ফলে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা আর বেশি দূরে নয়। যেকোনো সময় সেটা জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে। সেইসঙ্গে আগামী দিনের আন্দোলনের রূপরেখা আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তুলে ধরবেন। আমাদের প্রস্তুতি শেষ দিকে।
সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আজকে জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যেমন কলম্বোতে ফয়সালা হচ্ছে রাজপথে তেমনই ঢাকার ফয়সালাও হবে রাজপথে। এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, বর্তমান অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সংকট সমাধানে একটিই মাত্র পথ সেটা হলো নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন। তার আগে অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ ও সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, এই অবৈধ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে আমাদের ফয়সালা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিএনপিকে অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করতে হবে।
এলডিপির একাংশের সভাপতি আবদুল করিম আব্বাসীর সভাপতিত্বে ও মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম ও আবুল বাশারেরর পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, এলডিপির নেতা ও সাবেক এমপি আবদুল গণি, চাষি এনামুল হক ও তাঁতী দলের কাজী মনিরুজ্জামান মনির।
অনুষ্ঠানে কর্নেল অলি আহমদ ও ড. রেদোয়ান আহমেদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি থেকে পদত্যাগ করা ড. আবু জাফর সিদ্দিকী ও তমিজ উদ্দিন টিটুর নেতৃত্বে দুই শতাধিক নেতাকর্মী অতিথিদের হাতে ফুল দিয়ে আব্বাসী ও সেলিম নেতৃত্বাধীন এলডিপিতে যোগদান করেন। এই নেতারা গত বৃহস্পতিবার (১২মে) পদত্যাগ করেন।
