আলো ডেস্ক: আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি ৯ লাখ টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করেছে সরকার। যা চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের চেয়ে ৯ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি। নতুন এডিপিতে সরকার জোগান দেবে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬ কোটি ৯ লাখ টাকা। আর উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে আসবে বাকি ৯৩ হাজার কোটি টাকা। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় নতুন এডিপি অনুমোদন করা হয়।
এতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও শিক্ষা খাতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি এ সভায় যোগ দেন। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত ১০ টি প্রকল্পের মধ্যে প্রায় ১৩ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, ৮ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে চতুর্থ প্ৰাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি -৪), মাতারবাড়ি ২৬০০ মেগা ওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রকল্পে প্রায় ৬ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হযরত শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পে প্রায় ৬ হাজার ১৯ কোটি টাকা, প্রায় ৫ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা সেতু রেল সংযোগে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
৪ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কোভিড -১৯ ইমারজেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস (ডব্লিউবি-জিওবি) প্রকল্পে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ৩ হাজার ৮৫১ কোটি, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে ৩ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা, এক্সপানশন অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং অব পাওয়ার সিস্টেম নেটওয়ার্ক আন্ডার ডিপিডিসি এরিয়া প্রকল্পে ৩ হাজার ৫৯ কোটি এবং ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৬) প্রকল্পে ২ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রকল্প কমাচ্ছি না বার্তা একটাই ব্যয় কমানো। বাজেট বাড়ছে প্রজেক্ট কমছে এটা কোন বিষয় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, অন্যান্য বছরের ন্যায় এ বছরেও দেশের সম্পদ, বৈদেশিক অর্থায়ন ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা নিয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরের এডিপি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার, কোভিড -১৯ মোকাবিলা, অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়ন, মানব সম্পদ উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, দারিদ্র্য বিমোচন তথা দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভুমিকা পালন করবে। সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
