আলো ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নার্ভাস হয়ে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এই মন্তব্য করেন তিনি। সরকার প্রধানের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, এখনো সময় আছে পদত্যাগ করুন। নির্দলীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন।
খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমি নিন্দা ও ধিক্কার জানাই প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের জন্য। কোনো সভ্য এবং গণতান্ত্রিক সমাজে এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করা যায় না। বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, শেখ হাসিনা এখন নার্ভাস হয়ে গেছেন। তিনি দেখতে পাচ্ছেন তার ক্ষমতার দিন শেষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু করার বড়াই করছেন দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, পদ্মা সেতু আপনার একার নয়, আওয়ামী লীগের পৈতৃক সম্পত্তি নয়।
জনগণের ট্যাক্স কেটে নিয়েছেন, সেই টাকা দিয়ে করেছেন। সরকারের উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, কিসের উন্নয়ন করেছেন, কার উন্নয়ন করেছেন? উন্নয়ন তো করেছেন পি কে হালদারের। উন্নয়ন করেছেন শিক্ষামন্ত্রীর ভাইয়ের। আপনারা যারা ক্ষমতায় আছেন, তাদের প্রত্যেকের। তারা এই দেশকে একটা লুটপাটের রাজত্ব তৈরি করেছেন। আওয়ামী লীগ দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রত্যেক দিন অর্থনীতিবিদরা বলছেন- বাংলাদেশের অর্থনীতি রসাতলে যাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, তাকে এখন যদি উন্নত চিকিৎসা দেওয়া না হয়, তাহলে তার জীবন হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। আমরা বারবার বলেছি, তাকে মুক্তি দেন। তাই আজ এখান থেকে দাঁড়িয়ে আহবান ও দাবি জানাতে চাই, এখনো সময় আছে তাকে মুক্তি দেন। বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেন। আমাদের ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর যে মামলা আছে, তা তুলে নিন। যারা কারাগারে আছে তাদের মুক্তি দেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহবায়ক আবদুস সালাম। সঞ্চালনা করেন ঢাকা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক এবং দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম মজনু।
সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন উত্তর নগর বিএনপির আহবায়ক আমানউল্লাহ আমান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নাল আবদীন ফারুক, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. মুস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভ‚ঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।
