আলো ডেস্ক: চলতি বছর হজ ব্যবস্থাপনা সফল করতে নয়টি নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এসব নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ছাড়াও বিভিন্ন দপ্তর এবং সংস্থায় পাঠানো হয়েছে। গত ১৭ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত পর্যালোচনা সভায় এসব নির্দেশনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। বলা হয়েছে
১. হজযাত্রী পরিবহনে সম্ভাব্য সব ফ্লাইট ডেডিকেটেড হতে হবে। কোনোভাবেই যাতে ফ্লাইট বিপর্যয় না হয় সে বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
২. হজযাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে সব এয়ারলাইন্সকে ‘রুট-টু-মক্কা ইনিসিয়েটিভ’র বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করতে হবে।
৩. হজ ক্যাম্পেই সব ইমিগ্রেশন শেষ করার ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য হজ ক্যাম্পে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বুথ নিশ্চিত এবং বিশেষ প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত হিসেবে বিমানবন্দরে দুটি বুথ স্থাপন করতে হবে।
৪. সুষ্ঠুভাবে ইমিগ্রেশন শেষের জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে হজযাত্রীদের প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে অগ্রিম সরবরাহ করতে হবে।
৫. হজযাত্রীদের কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য আরটি-পিসিআর সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ডেডিকেটেড হাসপাতাল নির্ধারণসহ ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
৬. হজযাত্রীদের করোনা টিকা গ্রহণ সংক্রান্ত ‘সুরক্ষা অ্যাপ’ এ রক্ষিত তথ্য পেতে হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে সহজলভ্য করতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
৭. হজযাত্রীদের যাতে কোনো ধরনের কষ্ট না হয় সে লক্ষ্যে হজ ক্যাম্পে সব সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানকে সার্বক্ষণিক সেবাদান কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।
৮. বিমানবন্দর থেকে হজ ক্যাম্পে যাতায়াতের রাস্তা সচল ও বাধাহীন রাখতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
৯. ২০২২ সালের হজ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সফলভাবে শেষ করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৮ জুলাই সৌদি আরবে হজ অনুষ্ঠিত হবে। এবার বাংলাদেশ থেকে হজ পালনের সুযোগ পাবেন ৫৭ হাজার ৫৮৫ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৩ হাজার ৫৮৫ জন হজে যেতে পারবেন। সরকারিভাবে হজে যেতে প্যাকেজ-১ এ ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৪০ এবং প্যাকেজ-২ এ ৪ লাখ ৬২ হাজার ১৫০ টাকা খরচ ধরা হয়েছে।
বেসরকারিভাবে এজেন্সিগুলোর ‘সাধারণ প্যাকেজ’র মাধ্যমে হজ পালনে খরচ হবে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৪৪ টাকা। বেসরকারি হজযাত্রীদের নিবন্ধন গত রোববার শেষ হয়েছে। সরকারি হজযাত্রী নিবন্ধন চলবে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত। আগামী ৩১ মে থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। গত রোববার রাতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর বিষয়ে এ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। আগের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের নিবন্ধনের শেষ সময় ছিল গত রোববার।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি ব্যবস্থাপনার প্যাকেজ-১ এর নিবন্ধন কার্যক্রম ২২ মে সন্ধ্যায় বন্ধ করা হয়েছে। শূন্য কোটা পূরণের জন্য সরকার ঘোষিত হজ প্যাকেজ অনুযায়ী বর্ধিত সময়সূচি ঘোষণা করা হলো। নিবন্ধনের অর্থ পরিশোধে বর্ধিত সময় শুরু ২৩ মে, নিবন্ধনের অর্থ পরিশোধে বর্ধিত সময়ের শেষ তারিখ ২৪ মে (ব্যাংকিং সময় পর্যন্ত)।
বর্ধিত সময়ে প্রাক-নিবন্ধনের ক্রমিক ২৫ হাজার ৯২৫ থেকে সর্বশেষ ক্রমিক ২৭ হাজার ১০৫ পর্যন্ত হজযাত্রীরা নিবন্ধনের আওতায় আসবেন। সময়ে নিবন্ধনকারী ব্যক্তিরা কেবল সরকারি ব্যবস্থাপনার প্যাকেজ-২ এর অধীনে নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার পর্যন্ত বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫১ হাজার ৮৫১ জন এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৮৪৯ জন হজযাত্রী হজে যাওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন।
