আলো ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কাপড় ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান চৌধুরী ওরফে সেলিম চৌধুরী হত্যা মামলায় দুজনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদলত। সেইসঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর পৌনে ১২টায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাবিনা ইয়াসমিনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, আলীরটেকের ডিগ্রিরচর এলাকার সালাউদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আলী ও তার কর্মচারী ফয়সাল। পাশাপাশি অন্য আরেক ধারায় তাদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় দোষী সাব্যস্ত করে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
একইসঙ্গে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই মামলায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় দুজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- সোলেমান মিয়া ও মোহাম্মদ আলী হোসেন ওরফে লেবার আলী। ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করে কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এই রায় ঘোষণা করেছেন। আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট জাসমীন আহমেদ বলেন, ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ ফতুল্লার আলীরটেকের ডিগ্রিরচর এলাকার মোহাম্মদ আলীর ঝুটের গোডাউনে পাওনা দুই লাখ টাকা চাইতে গিয়েছিলেন কামরুজ্জামান চৌধুরী সেলিম। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি।
পাওনা টাকা চাওয়ায় পরিকল্পিতভাবে মোহাম্মদ আলী ও তার লোকজন সেলিম চৌধুরীকে হত্যা করে বস্তাবন্দি করে গোডাউনে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন। পরে ৯ এপ্রিল তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় সেলিমের স্ত্রী রেহেনা আক্তার রেখা বাদী হয়ে মামলা করেন। আদালত গতকাল সোমবার সেই মামলার রায় ঘোষণা করেন। তবে বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রিয়াজুর রহমান তালুকদার বলেন আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট নই। আমরা উচ্চ আদালতে যাবো। এদিকে এই রায়ে সন্তুষ্ট নন মামলার বাদী ও নিহত কামরুজ্জামান চৌধুরী ওরফে সেলিম চৌধুরীর স্ত্রী রেহেনা আক্তার রেখা। তিনি খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন।
আদালতের বারান্দায় কাঁদতে কাঁদতে রেহেনা আক্তার রেখা বলেন, আমার স্বামী কারো সঙ্গে কোনো ঝগড়া করতেন না। তিনি কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করতেন। আর তাকে মাত্র দুই লাখ টাকার জন্য হত্যা করেছে খুনিরা। এখন আমার একমাত্র ছেলে ছাড়া কেউ নেই। খুনিরা জেল থেকে বের হয়ে আমাকে ও আমার ছেলেকেও মেরে ফেলবে। আদালতের কাছে যদি বিচার না পাই তাহলে কার কাছে বিচার পাবো। এর থেকে ভালো আমি মরে যাই। আমি আর বেঁচে থাকতে চাই না। রেহেনা আক্তার রেখার পুত্রবধূ ঐশী আক্তার বলেন, আমি আমার শ্বশুরকে দেখিনি।
কিন্তু আমার শাশুড়ির মুখ থেকে সবসময় শ্বশুরের কথা শুনে থাকি। তার মতো একজন মানুষকে হত্যা করেছে খুনিরা। কিন্তু আদালত যে রায় দিয়েছেন তা মেনে নেওয়ার মতো না। আমরা এই রায় মানি না। আদালতের কাছে যদি ন্যায়বিচার না পাই তাহলে কার কাছে গেলে ন্যায়বিচার পাবো। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাসমীন আহমেদ বলেন, আদালত ১২ জনের সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এই রায় ঘোষণা করেছেন।
