ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-
রাজশাহী মহানগরী ও আশপাশের মহাসড়কে ভুটভুটি, নসিমন, করিমন এইসব নিষিদ্ধ যানবাহনের দৌরাত্ম্য কমছেই না। আর এতে ঘটছে বড়-বড় দূর্ঘটনা। সম্প্রতি রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত আইন-শৃংখলা কমিটির সভায় এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশের প্রতি নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। এই বিষয় নিয়ে মাঠপর্যায়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জোরালো কোন পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাই না। সরজমিনে গিয়ে আমাদের প্রতিবেদক দেখতে পান যে, রাজশাহী- চাঁপাই নবাবগঞ্জ, রাজশাহী – নাটোর, রাজশাহী – নওগাঁ মহাসড়কে ভুটভুটি, নসিমন- করিমন চলাচল করছে।
ইহা ছাড়া এই মহাসড়ক গুলিতে বিকট শব্দ করে চলাচল করে পাওয়ার টিলার। গরু-মহিষ পরিবহনের জন্য এই মহাসড়ক গুলিতে ট্রাকের সমান বড়-বড় আকারের নসিমন-করিমন চলাচল করছে। এই যানগুলি চলে খুব দ্রুত গতিতে। গ্রামের মহাসড়ক হয়ে এইসব গাড়ি রাজশাহী মহানগরীর সড়কগুলিতে ঢুকে পড়ছে। রাজশাহী পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া এলাকার বাসচালক মোঃ মাহার আলী আমাদের প্রতিবেদককে জানান, এই মহাসড়কে যেসব ভুটভুটি, নসিমন, করিমন চলাচল করে এইগুলি কোন নিয়মনীতি মানে না। এই যানবাহন গুলি যেখানে-সেখানে থেমে যায়। এইগুলি আবার হঠাৎ করে ইউটার্ন নেয়। এইসব যানবাহনের লুকিং গ্লাস থাকে না।
তাই তারা পিছনের যানবাহনগুলি দেখতে পাই না। এই যানগুলি শ্যালোমেশিন দ্বারা চলে। আর বিকট শব্দ করে। এইজন্য পিছন দিক থেকে হর্ন দিলে এইসব যানবাহনের চালকরা শুনতে পান না। আর তখন পিছনে থাকা বাস ও অন্যান্য গাড়িগুলিকে খুবই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এই যানগুলি মহাসড়কের রাস্তায় বন্ধ করা একান্ত প্রয়োজন। রাজশাহী মোহনপুর উপজেলার লালইচ মহল্লার বাস চালক মোঃ আশরাফ আলি আমাদের প্রতিবেদককে বলেন, এই যানবাহনগুলি আমাদের রাজশাহী মহাসড়ক ও আশপাশের মহাসড়ক গুলিতে চলাচল করতে না দেওয়া উচিত। সারা বাংলাদেশে “নিরাপদ সড়ক চাই” (নিসচা) এই শ্লোগানের রাজশাহী জেলার সহ-সভাপতি মোঃ ওয়ালিউর রহমান বাবু আমাদের প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের দেশে তথা রাজশাহী মহানগরী ও আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় এইসব যানবাহনের জন্য একটার পর একটা দ‚র্ঘটনা ঘটছে।
ইহাতে প্রাণহানিও ঘটছে। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে অবহিত করেছি যে, এইসব যানবাহনগুলি গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিশেষ ভ‚মিকা পালন করে আসছে। এই যানগুলি আমাদের দেশের কৃষিপণ্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যায়। অনেকের সংসার চলে এইসব যানবাহনের আয়ের উপর নির্ভর করে। আমরা চাই, এই যানবাহন গুলির জন্য আলাদা লেন করতে হবে। নতুবা এইগুলিকে একেবারেই গ্রামীণ পথে চলাচল করতে হবে। মহাসড়কে উঠে দ‚র্ঘটনার কারণ হওয়া যাবে না।
আমাদের মহাসড়কে এইসব যানবাহনগুলি যেন না চলাচল করে, এইজন্য গত ৬ই জুন রোজ সোমবার রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজারে পথসভা করেন পবা হাইওয়ে থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মোফাক্কারুল ইসলাম। এই পথসভায় বাংলাদেশ পুলিশের গোদাগাড়ি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন “মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধে উধর্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে একটা নিদের্শনা এসেছে”। আমরাও এইসব যানবাহনের চালকদেরকে এই যানগুলি চালাতে নিরুৎসাহিত করছি।
হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া রিজিয়নের পুলিশ সুপার মুন্সি সাহাবুদ্দিন আমাদের প্রতিবেদককে জানান, এইসব যান চলাচল বন্ধে সব ইউনিটকে নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী রেঞ্জের সব পুলিশ মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে।
