আলো ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংলাপকে পাতানো নির্বাচনের নাটক আখ্যা দিয়ে এতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি। দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তরায় দলের স্থায়ী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় সভাপতির ভাষণে আ স ম আবদুর রব বলেন, আগামী দ্বাদশ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার প্রশ্নেই জরুরি। অন্যথায় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতায় চরম ঝুঁকি সৃষ্টি হবে।
এর ফলে ভূ-রাজনীতিতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ রাষ্ট্রের নিরাপত্তাও হুমকিতে পড়বে। তিনি আরও বলেন, কর্তৃত্ববাদী দলীয় সরকারকে ক্ষমতায় রেখে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে না। ফলে সরকারের অধীন ও অধীনস্থ থেকে ইসির প্রস্তাবিত রোডম্যাপ ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনো ভ‚মিকা রাখতে পারবে না। ইসির সংলাপ পাতানো নির্বাচনের নাটক।
সভার একটি রাজনৈতিক প্রস্তাবে বলা হয়, বাংলাদেশের বাস্তবতায় নির্বাচনের সময় ইসিকে দলীয় সরকার তার অধীন ও অধীনস্থ করে ফেলে। তাই প্রবল ক্ষমতাতন্ত্রের বিপরীতে শুধু ইসির সদিচ্ছা বা আন্তরিকতা দিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। বর্তমান সরকারের কাছে নির্বাচন হচ্ছে ক্ষমতা ধরে রাখার উপায়। আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এই সরকার ছাড়া অন্য কারো জন্য প্রযোজ্য নয়। এতে আরও বলা হয়, বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক চেতনা, বিবেক ও সত্য বিসর্জন দিয়ে যেকোনো উপায়ে ক্ষমতা ধরে রাখার প্রতিজ্ঞায় অন্ধ ও নেশাচ্ছন্ন।
নির্বাচন মানেই সরকারের অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধতা দেওয়ার নামান্তর। এবারও দলীয় সরকার বহাল থাকলে প্রশাসন, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সরকার হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য করবে। সংবিধান বহির্ভূত অবৈধ ও বেআইনি কাজে দেশ এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ক্ষমতালোভী সরকার এবারের নির্বাচনেও ক্ষমতার অপব্যবহার করবে।
নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতির প্রয়োগ বা কারচুপি, ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা মিডিয়া ক্যু ছাড়া সরকারি দলের জয়লাভের কোনো সম্ভাবনাই নেই। ফলে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সরকার অনিচ্ছুক। সুতরাং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছাড়া দলীয় সরকারের অধীনে বিদ্যমান ইসি ক্ষমতাসীনদের পাতানো দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করলে তা হবে দেশের জন্য চরম আত্মঘাতী পদক্ষেপ।
তাই ইসির মত-বিনিময় সভার কোনো মতামত বা অভিমত বিদ্যমান অবস্থায় নির্বাচনী ব্যবস্থায় কার্যকর হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই আগামী ২৪ জুলাই ইসি আহূত সংলাপে জেএসডি অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্থায়ী কমিটির সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছানোয়ার হোসেন তালুকদার, স্থায়ী কমিটির সদস্য তানিয়া রব ও কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন প্রমুখ।
