আলো ডেস্ক: ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানে যৌতুক চাওয়াকে কেন্দ্র করে বর ও কনেপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বরসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকালে নগরকান্দা থানার ওসি হাবিল হোসেন এর সত্যতা নিশ্চিত করেন। এর আগে গত শুক্রবার বিকেল ৫টায় উপজেলার ফুলসুতি ইউনিয়নের হিয়াবলদি গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১২ জুলাই হিয়াবলদি গ্রামের (কুয়েত প্রবাসী) শামিল শেখের কলেজপড়ুয়া মেয়ে স্বর্ণা আক্তারের (১৯) সঙ্গে পার্শ্ববর্তী লস্করদিয়া ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের জব্বার শেখের ছেলে শাহজাহান শেখের (৩৪) পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।
পরে দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের এক মাসের মাথায় গত শুক্রবার অনুষ্ঠানের দিন ধার্য করা হয়। দুপুরের পর বরযাত্রী এলে আনুষ্ঠানিকভাবে খাওয়া-দাওয়া হয়। এরপর দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় দেনা পাওনা নিয়ে কথা কাটাকাটি। বরপক্ষের চাহিদামতো কনেপক্ষ ‘দেনা-পাওনা’ মেটাতে ব্যর্থ হয়। এ নিয়ে বাঁধে হট্টোগোল। এক পর্যায়ে দুই পক্ষ বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এ সময় দু’পক্ষের সমঝোতায় ওই সময়ই বর-কনের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরে কনে পক্ষ থেকে বরকে দেওয়া স্বর্ণের আংটি ফেরত চাওয়া হলে বরপক্ষ স্বর্ণের পরিবর্তে রূপার একটি আংটি ফেরত দেয়। আর এ নিয়েই বাঁধে সংঘর্ষ। এ সময় বরকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে কনেপক্ষের লোকজন।
এতে দুই পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়। খবর শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুই পক্ষকেই ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়। এ ব্যাপারে কনের মা শেলিনা বেগম বলেন, বিয়ের পর যৌতুক হিসেবে ছেলেপক্ষ আমাদের কাছে ৪ লাখ টাকা দাবি করে। আমরা দিতে দেরি করলে তারা আমাদের বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছিল। এ ছাড়া আমার মেয়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে থাকে। আমি তাদের বোঝাতে চেষ্টা করি এবং সময় চাই। দুই পরিবারের পরামর্শ অনুযায়ী গত শুক্রবার অনুষ্ঠানের দিন ঠিক করা হয়।
ইতোমধ্যে বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য আমাদের কেনাকাটা শেষ হয়েছে। অনুষ্ঠানে তাদের প্রায় ৫০ জন লোক বরযাত্রী হিসেবে আসে। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে চাহিদা মতো যৌতুক না পেয়ে তারা মেয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং তাদের পাওনার জন্য চাপ দেয়। আমরা একটু সময় চাইতেই তারা খারাপ আচরণ শুরু করে। আর এ নিয়েই বাঁধে বাকবিতণ্ডা। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। তবে বর শাহজাহান (৩৪) শেখ বলেন, আমার স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত। আমি বিষয়টি জেনে যাওয়ায় আমার সঙ্গে তার ঝগড়া বাঁধে।
তারা বাড়িতে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে আমার সব জিনিসপত্র রেখে দিয়েছে। তাছাড়া আমাকেসহ আমার সঙ্গের লোকদের পিটিয়ে আহত করেছে। এ বিষয়ে ফুলসুতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন বলেন, ঘটনাটি আমাকে কেউ এখনো জানায়নি, লোকমুখে শুনেছি। তবে বিয়ে বাড়িতে এমন ঘটনা দুঃখজনক, লজ্জাজনক। এ প্রসঙ্গে নগরকান্দা থানার ওসি হাবিল হোসেন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুই পক্ষকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে এ ব্যাপারে এখনও কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
