আলো ডেস্ক: মজুরি বাড়ানোর দাবিতে চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ সারাদেশের চা বাগানে বাংলাদেশ চা শ্রমিক উনিয়নের ডাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট পালন করছেন শ্রমিকরা। গতকাল শনিবার সকাল ৬টা থেকে সিলেটের লাক্কাতুরা, মালনিছড়া, খাদিম, কেওয়াছড়া, দলদলি, জাফলং ও লালাখালসহ সব চা বাগানে ধর্মঘট চলছে।বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে গত ৮ আগস্ট থেকে আন্দোলন করে আসছি।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি দাওয়া নিয়ে বৃহস্পতিবার চা বাগানগুলোর মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের নিয়ে সমঝোতা বৈঠক করে বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তর। মালিকপক্ষের কেউ বৈঠকে আসেননি। এতে কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। ফলে গতকাল শনিবার থেকে চা বাগানের শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন।
জানা গেছে, বর্তমানে চা শ্রমিকদের ১২০ টাকা মজুরি দেওয়া হয়। এই মজুরি ৩০০ টাকা করার দাবি জানাচ্ছেন তারা। দাবি আদায়ে বিভিন্ন সময়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছেন শ্রমিকরা। চা বাগান মালিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বাংলাদেশ চা সংসদের সঙ্গে আলোচনা, স্মারকলিপি পেশও করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ৮ আগস্ট থেকে মানববন্ধন ও কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন তারা।
এদিকে হবিগঞ্জে দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ২৪টি চা বাগানে গতকাল শনিবার সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন শ্রমিকরা। বেলা ১১টা থেকে তারা আন্দোলনে নামেন। এ সময় তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন। একপর্যায়ে ঢাকা-মৌলভীবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেন। সকালে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া চা বাগানে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বাগানের শ্রমিকরা।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে আসবেন না বলেও জানান। কামাইছড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি বিমল ভর বলেন, আপনারা খাবেন আর আমরা খাব না, তা হতে পারে না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে দৈনিক ১২০ টাকা মজুরিতে আমাদের খাবারই হয় না।
আমরা কী করে সন্তানদের লেখাপড়া শেখাব, ওষুধ কিনব। অতএব দৈনিক কমপক্ষে ৩০০ টাকা হলে ঠিকমতো খাবার খেয়ে বাঁচতে পারব। মালিকপক্ষ শুধু আমাদের সঙ্গে টালবাহান করছে। কিন্তু আমাদের দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি করে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলতে থাকবে।
