আলো ডেস্ক: বিএনপির চলমান আন্দোলনে ছাত্রদল এখনো প্রত্যাশা অনুযায়ী ভ‚মিকা রাখতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আন্দোলনে ছাত্রদল বিএনপির মূলশক্তি, অন্য অঙ্গ সংগঠন সহায়ক শক্তি। তাই ছাত্রদলকে রাজপথে অতীতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তাহলেই সরকারের পতন ঘটবে। গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর মুক্তি ও কারাগারে তাকে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে নির্যাতনের প্রতিবাদে এ সভার আয়োজন করা হয়।
খসরু বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সরকার পতনের চলমান আন্দোলনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে বিএনপির পদাতিক বাহিনী হিসেবে থাকতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা বিভিন্ন ইস্যুতে বিভিন্ন রকম বক্তব্য দিচ্ছেন। কিন্তু আমরা এসবের কোনো উত্তর দিচ্ছি না। জনগণ নির্দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। এটা আমাদেরও দাবি। আমরা এর বাইরে কোনো আলোচনা করবো না। নির্দলীয় সরকারের অধীনে ছাড়া আগামীতে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, বিএনপির নেতৃত্বে চলমান আন্দোলন আমরা আগামীতে যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাবো। নব্বইয়ের মতো ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে এ সরকারকে বিদায় করবো।
ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে দলের আরেক যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, যত চেষ্টাই করুন না কেন, জোর করে আর ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। গণআন্দোলনে ক্ষমতার পট পরিবর্তন হবেই। তখন পালানোর পথ পাবেন না। বিএনপির বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত। সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে এ রোগ থেকে তারা মুক্তি পাবে না। বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বর্তমানে ছাত্রদলের আন্দোলন করার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তা আর হবে না। ফলে সরকারকে উৎখাত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে গিয়ে ছাত্রদলের আন্দোলন করতে হবে। এ্যানি বলেন, ছাত্রদল আন্দোলন সংগ্রামের অতন্দ্র প্রহরী। এরশাদের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করেছি।
তাই এই প্রজন্মকেও আন্দোলন করতে হবে। আর এই প্রজন্ম যদি জেগে উঠে তাহলে মধুর ক্যান্টিনে গিয়ে সেই পদযাত্রা, সেই পতাকা মিছিল আমাদের করতে হবে। দেশকে উদ্ধারের জন্য জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে নেতৃত্ব দিতে হবে। অতীতে আমরা যে আন্দোলন করেছি সেই একই মনোবল এবং সাহস নিয়ে আমরা বর্তমান ছাত্রদলের পাশে আছি এবং থাকব। তিনি বলেন, এই সরকারকে হটাতে চলমান আন্দোলনে ছাত্রদলকে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করতে হবে। তাদেরকে নতুন আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
যুব সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। আন্দোলনে আমাদের পিছপা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর যত ধরণের খারাপ আচরণ করা দরকার, সরকার তা জেলখানায় বিএনপির উপর করেছে বলেও জানান শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, সুচিকিৎসা না দিয়ে কারাগারে রুহুল কবির রিজভীকে হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আমান বলেন, কিছুদিন আগে রিজভীর বাসায় গিয়েছিলাম। তার সহধর্মীনির সঙ্গে কথা বলে জেনেছি যে, তিনি (রিজভী) কী পরিমাণ অসুস্থ। কেন তাকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। কারাগারে নাসির উদ্দিন পিন্টুকে মেরে ফেলা হয়েছে।
ঠিক একইভাবে আজকে রিজভীকে সরকার মারার পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও রিজভীসহ বিএনপির সব গ্রেপ্তারকৃত নেতাদের মুক্তির লক্ষ্যে আগামীতে কর্মসূচি দেওয়া হবে। তাদের সবাইকে আমরা মুক্ত করবো ইনশাআল্লাহ। অতীতে রাজপথ ছাড়া কোনো ফয়সালা হয়নি। তাই নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। আমান বলেন, শেখ হাসিনার পতন ছাড়া দেশ ও জনগণের মুক্তি নেই। এ লক্ষ্যে বিএনপির নেতৃত্বে আন্দোলন চলছে।
শেখ হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। মৃত্যু হবে, তবুও আমরা কেউ রাজপথ ছেড়ে যাব না। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন, গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
