পুঠিয়া প্রতিনিধি
রাজশাহীর পুঠিয়ায় পরিবেশ অধিদফতরের কোনো ছাড় পত্র ছাড়াই চলছে ইটভাটা। এসব ইটভাটায় গাছ পোড়ানো হচ্ছে দেদারসে। এক ইটভাটা মালিকের দাবি তিনি সবাইকে ম্যানেজ করেই চালাচ্ছেন তার ইটভাটা।
উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের ভরতমাড়িয়া গ্রামের পাশে দনকুড়িতে আইউব আলীর ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে গাছ (খড়ি) দিয়েই পোড়ানো হচ্ছে ইট। আর এভাবেই চলছে পুঠিয়ার সবগুলো ইটভাটা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিবিএফ নামের একটি ইটভাটায় গাছের কাঠ দিয়েই পোড়ানো হচ্ছে ইট। ওই ইটভাটায় কখনো নাকি কয়লা দিয়ে পোড়ানোই হয়নি ইট। ওই ইটভাটা কয়লার কোন অস্তিত্বই দেখা মেলেনি। গাছের খড়ি দিয়ে পোড়ানো হচ্ছে ইট। ইটভাটার চারপাশে গাছের কাঠ স্তুপ করে রাখা হয়েছে। আর সেগুলো দিয়ে চলছে ইটভাটা।
গাছ দিয়ে ইটভাটা চালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা বলেন, কয়লার অনেক দাম, তাই গাছ দিয়ে ইটভাটা চালানো হচ্ছে। পোড়ানো হচ্ছে ইট।
এ বিষয়ে জানতে ইটভাটার ম্যানেজার শামীম হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কয়লার দরকার নেই, গাছ (খড়ি) দিয়ে ইট পড়ানোর অনুমতি রয়েছে আমাদের।
এ বিষয়ে জানতে বিবিএফ ইটভাটার মালিক আইউব আলী বলেন, দেশের সকল ইটভাটাতেই গাছ পোড়ানো হয়। সবখানে ম্যানেজ করেই আমার ইটভাটা চলছে। আমরা সরকারকে সবচেয়ে বেশি ভ্যাট ট্যাক্স দিয়ে কাজ করছি। গাছ দিয়ে ইটভাটা চালানোর অনুমতি আছে বলেই, আমরা ইটভাটায় গাছগাছালি পোড়াচ্ছি।
রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. কবির হোসেন বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলা অবৈধ ২৫ টি ইটভাটা বন্ধ করে দিয়েছি। ইটভাটায় গাছ পোড়ানো সম্প‚র্ণভাবে নিষিদ্ধ। যদি কেউ গাছ দিয়ে ইটভাটা চালায় তা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। আমরা প্রতিনিয়ত অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। এত বেশি ইটভাটা যে সবখানে সব সময় যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই যেগুলো ইটভাটা অবৈধভাবে চলছে, আমরা খুঁজে বের করে সেই ইটভাটা গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
