আলো ডেস্ক: নাটোরে আওয়ামী লীগের সমাবেশে হামলা ও গুলিবর্ষণের মামলায় জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. শহিদুল ইসলাম বাচ্চুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে টাঙ্গাইল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এছাড়া একই মামলায় গত সোমবার রাতে এন এস কলেজের সাবেক জি এস জহির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
গ্রেপ্তারের পর তাদের নাটোর সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকল মঙ্গলবার সকালে তাদের দুইজনকে নাটোর আদালতে পাঠানো হয়েছে। নাটোর সদর থানার ওসি নাছিম আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রোববার দুপুরে নাটোর সদর থানায় মামলাটি করেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নিউন হোসেন।
মামলায় জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. শহিদুল ইসলাম বাচ্চুকে প্রধান আসামি করে ২৬ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ১০০/১৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়। ওসি আরও বলেন, পরে রোববার বিকেলে শহরের ফৌজদারিপাড়া এলাকা থেকে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. শহিদুল ইসলাম বাচ্চুর লাইসেন্স করা পিস্তল জব্দ করে পুলিশ। একইদিনে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আলম আবুলকে তেবাড়িয়ার তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর গত সোমবার টাঙ্গাইল থেকে শহিদুল ইসলাম বাচ্চু এবং নাটোর থেকে জহির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিএনপি-জামায়াতের অব্যাহত দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার বিরুদ্ধে নাটোর পৌর আওয়ামী লীগের আয়োজনে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে শহরের কান্দিভিটুয়া দলীয় কার্যালয় থেকে শান্তি মিছিল বের করা হয়।
মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপশহর মাঠে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদের সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে বাধা দেয়। পরে সেখানেই সমাবেশ করার সময় জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম বাচ্চু সমাবেশ লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়েন। এছাড়া বিএনপির অন্য নেতাকর্মীরা লোহার রড, চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান।
হামলায় জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বিপ্লব ও শহর যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সায়েম হোসেন উজ্জ্বল আহত হন। এ ছাড়া তাদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
