মোঃ ফয়সাল হোসেন
আসন্ন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ২০২৩ নির্বাচন ২১ জুন। এরই মধ্যে অনেক প্রার্থী নমিনেশন ফরম উত্তোলন করেছেন এবং জমাও দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন অফিসে। প্রচার প্রচারানা শুরু হয়ে গেছে বেশ জোরালো ভাবেই। কিন্তু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নগরীর ১৯নং ওয়ার্ডে দুই পক্ষের মধ্যে চলছে কোন্দল।
গত ১৭ মে বুধবার রাতে একটি অনলাইন পোর্টালে লাইভে এসে ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন সংবাদকর্মীদের বলেন, আশরাফ বাবু একজন গুন্ডা, মাস্তান তার গুন্ডাবাহিনী দিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করছে। আপনারা আসার কিছুক্ষণ আগে আমার একজন কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সাদ্দামের বাড়িতে আশরাফ বাবু তার গুন্ডাবাহিনী নিয়ে দেশীয় অস্ত্র সহ হামলা চালিয়েছে এবং ইট পাটকেল নিক্ষেপ করেছে।
ওসি সাহেব আমাদেরকে শান্ত থাকতে বলেছে, আমরা শান্ত থাকার চেষ্টা করছি। আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানাতে চাই, পরিবেশ শান্ত থাকুক। প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রশাসন যদি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবো, ব্যাপক জনসমাগম করব, থানা ঘেরাও করবো, প্রয়োজনে আমরা মাননীয় মেয়র দপ্তরে যাব এবং আশরাফ বাবুর মত গুন্ডাকে উৎখাত করতে যা যা করণীয় আমরা সব করবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশরাফ বাবু সাক্ষাৎকারে দৈনিক রাজশাহীর আলোকে বলেন, ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন অনেক আগে থেকেই আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার চালিয়ে আসছে। তার সবকিছুই মিথ্যার উপরে, এক কথায় বলা যায় তার জীবনটাই মিথ্যার উপরে চলে। কারণ সে জানে নির্বাচনে আসলে আমার সাথে বিপুল ভোটে পরাজিত হবে।
এ কারণেই সে বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন ভাবে আমার নামে বদনাম ছড়ানোর চেষ্টা করছে। সাদ্দামের বাড়িতে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে আশরাফ বাবু বলেন, এটা সম্প‚র্ণ ষড়যন্ত্র, মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন। আমার নামে বদনাম ছাড়ানোর অপচেষ্টা করছে। আপনারা নিজেও দেখেছেন, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আমি ও আমার ছেলে ফেসবুক লাইভে এসে সাদ্দামের মা ও বাবার সাথে কথা বলেছি।
সাদ্দামের বাবা-মা বলেছে হামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। আমার বাড়িতে কোন হামলা হয়নি। এখন যদি কাউন্সিলর সুমনের লোকজন আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে আপনার দোষ দেয় তখন আমি কি করব। তাই আমি মেয়র মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এই ওয়ার্ডে যেন কোন সংঘাত না হয়। আশরাফ বাবু আরো বলেন, আমি সাদ্দামের সাথে নিজেও কথা বলেছি।
সাদ্দাম বলেছে ভাই আমি তো হামলার ব্যাপারে কিছুই জানিনা। আমি প্রমাণ করে দিয়েছি কাউন্সিলর সুমন একজন দুষ্টু ও নোংরা মন মানসিকতার লোক। সুমন নিজে একাধিক মার্ডার মামলার আসামি নিয়ে ঘুরছে, ওয়ার্ডের মধ্যে মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র আমার আশপাশে রেখে দিয়ে আমাকে ফাঁসাতে চাচ্ছে।
সে বলে বেড়াচ্ছে আমার নির্বাচনী বাজেট ৩ কোটি টাকা আবার কোথাও বলছে ৫ কোটি টাকা। আমি টাকা দিয়ে ভোট কিনবো। সুমন সাবেক কাউন্সিলর বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান শরীফের স্ত্রীর মাধ্যমে এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা দিচ্ছে এবং কোরআন শরীফে হাত দিয়ে শপথ করাচ্ছে যেন ভোটটা তৌহিদুল হক সুমনকে দেওয়া হয়।
যার ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে আছে। এভাবে সে টাকার খেলায় মেতেছে, টাকার বিনিময়ে ভোট কিনে নির্বাচনে পাশ করতে চাই। এ বিষয়ে জানতে, ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
