আলো ডেস্ক: রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে শিশু সালমান অপহরণের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত সোমবার রাতে র্যাব-৭ ও ১০ চট্টগ্রামের সদরঘাট আইস ফ্যাক্টরি রোড এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, চার বছরের শিশু অপহরণ ও মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় অপহৃত শিশুকে চট্টগ্রাম মহানগরীর সদরঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে র্যাব-১০।
এ সময় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো অপহরণ চক্রের মূল হোতা মো. শাফায়েত হোসেন আবির ও মো. আল আমিন। এ ঘটনায় আরও দুজনের নাম-পরিচয় পেয়েছে র্যাব। তারা হলো হেলাল ও আইয়ুব। র্যাব জানায়, ১৫ জুলাই মমিনবাগ এলাকা থেকে ট্রেন দেখানোর কথা বলে সালমানকে অপহরণ করে চট্টগ্রাম চলে যায় তিন অপহরণকারী। পরদিন (১৬ জুলাই) সালমানের পরিবারকে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করে তারা। সালমানের পরিবার বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশ ও র্যাব-১০-কে অবহিত করে।
র্যাব চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় অপর দুজন পালিয়ে যায়। মঈন আরও বলেন, গত রাতে র্যাব-৭ ও ১০-এর একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের সদরঘাট আইস ফ্যাক্টরি রোড এলাকায় যৌথ অভিযান চালায়। অপহরণকারীরা সালমানকে ট্রেনে করে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম নিয়ে যায়। এরপর বিভিন্ন ট্রেনে ঘুরে ঘুরে অপহৃত পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে।
শিশুটির বাবা মওলানা ইমদাদুল্লা হজে থাকায় অভিযুক্তরা এ সুযোগ কাজে লাগায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, শাফায়েত ও আল আমিন ভিকটিম সালমানের পাশের বাসায় ভাড়াটে। তিন মাস আগে ভিকটিমকে তাদের বাসার সামনে খেলাধুলার সময় তাকে অপহরণের পরিকল্পনা করে এবং সালমানের বাবা হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। এ সুযোগে পরিকল্পনা অনুযায়ী সালমানকে চিপস, চকলেট, খেলনা কিনে দিয়ে তার সঙ্গে সখ্য ও বিশ্বস্ততা অর্জন করে।
গত ১৫ জুলাই আল আমিন সালমানকে অপহরণ করে কামরাঙ্গীরচরের মাদবর বাজার এলাকায় তার সহযোগী হেলালের কাছে নিয়ে যায়। পরে হেলাল ভিকটিমকে চট্টগ্রামে নিয়ে শাফায়েত ও আল আমিনকে চট্টগ্রামে যেতে বলে। চট্টগ্রামে গিয়ে হেলালের পরিচিত আইয়ুবের বাসায় সালমানকে রাখা হয়। পরে অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনে ভিকটিমের পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ভিকটিমের পরিবার মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অপহরণকারীদের পাঁচ হাজার টাকা দেয়।
একপর্যায়ে অপহরণকারীরা পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সালমানকে ফেরত দিতে রাজি হয়। ট্রেনে ঘুরে ঘুরে কেন অপহরণ ফাঁদ পাতা হয়েছিল, এমন প্রশ্নে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, তারা জানতে পেরেছে এক জায়গায় বসে মুক্তিপণ চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সহজে শনাক্ত করে ফেলে। এজন্য তারা একেক সময় একেক ট্রেনে ঘুরে ঘুরে অপহরণের টাকা দাবি করছিল। তারা অভিনব পন্থা অবলম্বন করলেও র্যাব তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
