আলো ডেস্ক: বর্তমানে বিচারপতিরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চাইতেও বেশি দলীয় বক্তব্য দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, পরশুদিন সম্ভবত আইন কমিশনের একটা সভা হলো। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি এমন বক্তব্য দিলেন যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যরাও এত ভাল বক্তব্য করতে পারেন না।
এখন বিচারপতিরাও যদি আওয়ামী লীগের মতো বক্তব্য দেন তো মানুষ যাবে কই? গতকাল শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণতন্ত্র মঞ্চ আয়োজিত গণমিছিলপূর্ব সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। ক্ষমতায় থাকতে সরকার ভারত ও চীনের দ্বারস্থ হচ্ছে দাবি করে মান্না বলেন, সারা দুনিয়ায় যান আপনারা, আর আমাদের কথা বলেন! আমরা তো রাজপথে আছি। সারা ঢাকায় মিছিল করবো।
মিছিলে মিছিলে, আন্দোলনে আন্দোলনে, স্লোগানে স্লোগানে সরকারের পতনে বাধ্য করবো আমরা। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশের সব পিলার এক এক করে ভেঙে দিচ্ছেন। যে যাই বলুক বলছে, ক্ষমতায় থাকা চায়। যারা ভোট নষ্ট করেছে, বিশ্ববিদ্যালয় নষ্ট করেছে, নির্বাচন কমিশন নষ্ট করেছে, জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, কোটি কোটি ডলার বিদেশে পাচার করেছে- ওদের ছাড়বো না। লড়াই তাদের বিরুদ্ধে করতে থাকবো, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা না যায়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক প্রমুখ। হাসনাত কাইয়ুম বলেন, আজ যারা ক্ষমতায় আছে, তারা কোনো সরকার নয়। তারা কোনোবারই জনগণের সমর্থন ও ভোট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করার জন্য বৈধ পথে ক্ষমতায় আসেনি।
এরা চোর, পাচারকারী, মাফিয়াদের সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিয়ে জনগণকে শোষণ ও দেশকে দেউলিয়া করার পাঁয়তারা করছেন। আমরা এই সিন্ডিকেটকে অপসারণের কথা বলছি। তিনি আরও বলেন, এই সরকার এবং শাসন ব্যবস্থা- দুটোই আমরা (গণতন্ত্র মঞ্চ) পরিবর্তন করতে চাই।
এর জন্য সবার আগে আমরা সরকারকে উচ্ছেদ করতে চাই, পদত্যাগে বাধ্য করতে চাই। যদি তারা পদত্যাগ করে তাহলে তাদের জন্য, জনগণের জন্য, তাদের দালাল-চামচাদের জন্য ভালো। আর যদি তারা পদত্যাগ না করে, তাহলে আজ ঢাকা যেমন মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়েছে, তেমনি সারা দেশ মিছিলের দেশে পরিণত হবে।
