আলো ডেস্ক: হাইকোর্টের নির্দেশে দ্বিতীয় দফা আলোচনা করেও দুই শিশুর জিম্মা নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেননি জাপানি মা নাকানো এরিকো ও বাংলাদেশি বাবা ইমরান শরীফ। তাই আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত গুলশানের ভাড়া বাসাতেই জাপানি দুই মেয়ের সঙ্গে তাদের মা থাকবেন এবং বাবা শুধুমাত্র দিনের বেলা থাকতে পারবেন বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২১ অক্টোবর দিন ধার্য রেখেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন। আদালতে শিশুদের বাবার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। অন্যদিকে জাপানি মায়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। এর আগে গত ১৯ আগস্ট শরীফ ইমরানের জিম্মায় থাকা দুই শিশু সন্তানকে ৩১ আগস্ট হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন আদালত। শিশুদের মা জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকোর করা রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট এসব আদেশ দেন। পরে দুই শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগে তাদের মা পৃথক মামলা দায়ের করলে গত ২২ আগস্ট শিশুদের উদ্ধার করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি। এরপর তাদেরকে তেজগাঁওয়ের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছিলো। গত ২৩ আগস্ট শরীফ ইমরানের জিম্মা থেকে দুই শিশু সন্তানকে সিআইডি কর্তৃক উদ্ধারের পর ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তেজগাঁওয়ের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে উন্নত পরিবেশে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তাদের মা ও বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বাবা শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন বলেও আদালত সময় বেধে দিয়েছিলেন। এছাড়াও ৩১ আগস্ট শিশুদেরকে হাইকোর্টে হাজির করতে এবং এ সময়ের মধ্যে আদালত উভয়পক্ষের আইনজীবীদের বিষয়টি সমাধান করতে ভূমিকা রাখার প্রচেষ্টা চালাতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। গত ৩১ আগস্ট বাংলাদেশি বাবা ও জাপানি মায়ের দুই শিশুকে তেজগাঁওয়ের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের পরিবর্তে গুলশানস্থ বাসায় একসঙ্গে ১৫ দিন বসবাস করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ঢাকার সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পদের একজনকে বিষয়টি তদারকির নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ডিএমপি কমিশনারকে তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়। ওই সময়ের মধ্যে তাদেরকে বিষয়টির সুরাহা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন আদালত। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় দুইপক্ষের আইনজীবীদের আলোচনায় বসার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তবে এ বিষয়ে কোন সুরাহা না হওয়ায় মামলাটি পুনরায় শুনানিতে ওঠে।
