মোঃ আতিকুর রহমান
রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার কেল্লাবারুইপাড়া নিবাসী মরহুম ফাহিম উদ্দিন মাস্টার ও আনোয়ারা খাতুন দম্পতির জ্যেষ্ঠ সন্তান, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ইন্টারপোল ও ল’ কমিশনের সাবেক সদস্য এবং ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ড. এম এনামুল হক আর নেই।
রোববার (৩০ আগস্ট) ফজরের সময় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
ড. এম এনামুল হক ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘ কর্মজীবনের একজন অভিজ্ঞ ও স্বনামধন্য কর্মকর্তা। কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল ও ল’ কমিশনের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবন, দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব এবং সামাজিক অবদানের কারণে গোদাগাড়ীসহ রাজশাহীর বিভিন্ন মহলে তিনি অত্যন্ত পরিচিত ও সম্মানিত ছিলেন।
২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। রাজনীতির পাশাপাশি নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক ছিল।
মৃত্যুকালে তিনি এক স্ত্রী, এক কন্যা ও দুই পুত্র সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, শুভাকাক্সক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক রুশদ হকের পিতা।
এছাড়া তিনি সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মরহুম ব্যারিস্টার আমিনুল হকের আত্মীয়। তাঁর পরিবারের সঙ্গে রাজশাহীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও বিশিষ্টজনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বিএমডিএর প্রতিষ্ঠাতা, নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ড. এম আসাদুজ্জামান এবং রাজশাহী-১ আসনের সাবেক বিএনপি প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) মোঃ শরীফ উদ্দীনের ভাই। একই সঙ্গে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জনাব রেহান আসিফ আসাদের বড় চাচা।
তাঁর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর গোদাগাড়ীর কেল্লাবারুইপাড়া এলাকাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন, ব্যক্তিত্ব, দেশ ও সমাজের প্রতি অবদান এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কের কথা স্মরণ করে স্বজন, সহকর্মী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও শুভাকাক্সক্ষীরা গভীর শোক প্রকাশ করছেন।
পরিবার ও স্বজনরা মরহুমের জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন।
জানাজা ও দাফন
প্রাপ্ত শোকবার্তা অনুযায়ী, আগামী সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১১টায় আ. ফ. জি. পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ড. এম এনামুল হকের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হবে।
ড. এম এনামুল হকের মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
মহান আল্লাহ তায়ালা মরহুম ড. এম এনামুল হককে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়স্বজনকে এই অপূরণীয় শোক সইবার শক্তি দান করুন। আমিন।
