ইফতেখার আলম বিশাল
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন থেকে এবার এক সম্ভাবনাময় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে দূর প্রাচ্যের দেশ চীনে। দেশের উদীয়মান বক্সিং কোচ ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের তরুণ ক্রীড়াবিদ মোঃ সামিউল ইসলাম একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রজেক্টে অংশ নিতে চীন গমন করছেন। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তিনি চীনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) থেকে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক (বিএসএস) শেষ করা সামিউল ইতোমধ্যে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বিকেএসপির প্রাক্তন এই শিক্ষার্থী এর আগে সেনাবাহিনীসহ একাধিক সিভিল সংস্থায় সফলভাবে বক্সিং কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ‘নাদিম বক্সিং একাডেমি’র সহকারী কোচ হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে উদীয়মান বক্সারদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছেন।
চীন সফর ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সামিউল ইসলাম জানান, প্রথম ধাপে তিনি চীনের গুয়াংডং প্রদেশের ছিংইউয়ান (ছরহমুঁধহ) ভিত্তিক ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান ‘ছিংইউয়ান চিচেন ছিংইং স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার কম্যুনিকেশন কোং লিঃ’ এর একটি টেনিস প্রজেক্টে কাজ করবেন। ২০২৬ সালের ১৭তম গুয়াংডং প্রাদেশিক গেমসের প্রস্তুতিমূলক এই মেগা প্রজেক্টে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়েই শুরু হবে তার প্রথম পর্ব।
প্রজেক্টের শুরুতে তিনি স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতি আয়ত্ত করার পাশাপাশি তাদের প্রশাসনিক ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় যুক্ত থাকবেন। ভাষা শিক্ষা সম্পন্ন করার পরপরই মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী উক্ত কোম্পানির সার্বিক তত্ত্বাবধানে একটি আধুনিক ‘বক্সিং স্কুল’ গড়ে তোলার কাজে হাত দেবেন সামিউল। সেখানে তিনি প্রধান কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে চীনা ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বক্সিং প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন।
একজন বাংলাদেশী তরুণ কোচের চীনের মতো উন্নত ক্রীড়া অবকাঠামোর দেশে এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও স্থানীয় প্রশির্থীদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং গর্বের বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
