আলো ডেস্ক: ঢাকায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ উদ্যোগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ওপর অনুশীলন শুরু হয়েছে। ঢাকার আর্মি গলফ ক্লাবে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও মার্কিন সেনাবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে ভূমিকম্প পরবর্তী অনুসন্ধান ও উদ্ধার বিষয়ক তিন দিনব্যাপী অনুশীলন শুরু হয়েছে। ডিজাস্টার রেসপন্স এক্সারসাইজ অ্যান্ড একচেঞ্জ বাংলাদেশ-২০২১ শীর্ষক এ অনুশীলনের উদ্বোধন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। এ অনুশীলনের মূল উদ্দেশ্য হলো- ভূমিকম্প তথা সব ধরনের দুর্যোগ ব্যবস্থপনায় আন্তর্জাতিক পদ্ধতির উপর সম্যক ধারণা লাভ, দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত প্রয়াস নিশ্চিত করতে অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, ভূমিকম্প মোকাবিলায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার, যোগাযোগ, মেডিকেল শেল্টার ও ত্রাণ কার্যক্রমের আলোকে দুর্যোগ ব্যবস্থপনায় গাইডলাইন চূড়ান্তকরণ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, দুর্যোগ ব্যবস্থপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রশান্ত মহাসাগরীয় মার্কিন সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল রিগাইনাল্ড জিএ নিল বক্তব্য দেন। এ অনুশীলন ২০১০ সাল থেকে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ বছর কোভিড -১৯ প্রটোকল অনুসরণ করে অনুশীলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অনুশীলনে ২৩ দেশের ১৪৭টি সংস্থার ৩ শতাধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন। দেশগুলো হলো- বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, ভূটান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, তুরস্ক, ফিজি, মঙ্গোলিয়া, লাওস, কেনিয়া, জার্মানি, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, নাইজেরিয়া ও চীন। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও এনজিওর প্রতিনিধিত্ব করছেন। এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে অধ্যয়নরত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকরা এ অনুশীলনে অংশ নিচ্ছেন। এ অনুশীলন এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূমিকম্প দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত বৃহত্তম অনুশীলন। এ বছর কোভিড প্রটোকল নিশ্চিতের জন্য অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সীমিত করা হয়েছে। এ ছাড়া এবারই প্রথম ফিজিক্যাল এবং ভার্চুয়াল পার্টিসিপেশনের মাধ্যমে দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে এই অনুশীলনে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অংশগ্রহণকারী দেশসমূহের সামরিক উপদেষ্টা ও কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।
