স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীর কাটাখালী থানার নলখোলা পূর্বপাড়া এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দুই নিকটাত্মীয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। শালিসের লিখিত সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিতর্কিত মেহগনি গাছ কেটে ফেলা, এরপর সেই ঘটনার দায় প্রতিপক্ষের ওপর চাপানো এবং একটি আবাসিক ভবন ভেঙে ফেলার অপচেষ্টার অভিযোগ তুলেছে একটি পরিবার। এ ঘটনায় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, নলখোলা পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ রেজাউল করিম ও শহিদুল ইসলাম পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। তাদের দাবি, পূর্বেই সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জমির পরিমাপ ও বণ্টন সম্পন্ন হয় এবং সেই সীমানা অনুসারেই তারা পাকা বসতবাড়ি নির্মাণ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, পরবর্তীতে তাদের বাড়ির উত্তর পাশের একটি জমি আজিবার নামে এক ব্যক্তি ক্রয় করেন। জমি কেনার পর তিনি সীমানার একেবারে কাছাকাছি মেহগনি গাছ রোপণ করেন। সময়ের সঙ্গে গাছ বড় হলে তার ডালপালা ভবনের ছাদ ও দেয়ালে আঘাত করতে শুরু করে। এতে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয় এবং কাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। একাধিকবার গাছ অপসারণের অনুরোধ জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
এ অবস্থায় বিরোধের সমাধানে ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি নলখোলা ও হরিয়ান এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি শালিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের নিযুক্ত ভূমি জরিপকারী (আমিন) উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ আলোচনার পর একটি লিখিত সমঝোতা চুক্তি হয়। ওই চুক্তিতে অভিযুক্ত আজিবার, তাঁর ছেলে, উভয় পক্ষের আমিন, ভুক্তভোগী রেজাউল করিম এবং উপস্থিত শালিসদাররা স্বাক্ষর করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সেই চুক্তিতে গাছ অপসারণে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১০ জুলাই ভোরে আজিবার ও তাঁর সহযোগীরা ওই মেহগনি গাছগুলো কেটে ফেলেন। পরে উল্টো গাছ কাটার অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, “গাছ কাটার পর এখন আমাদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, প্রতিনিয়ত নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। পরিবার নিয়ে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “এই বিরোধের মূল উদ্দেশ্য গাছ বা জমির সীমানা নয়। আমাদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে আমাদের পৈতৃক বসতবাড়িটি ভেঙে ফেলার চেষ্টা চলছে। গাছের কারণে ভবনের ক্ষতি হয়ে থাকলে সমাধান হওয়া উচিত ছিল গাছ অপসারণের মাধ্যমে, ভবন ধ্বংসের মাধ্যমে নয়।”
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। শালিসের সিদ্ধান্ত কার্যকর না হওয়ায় নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে বলেও তারা মনে করছেন।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আজিবারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত, নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
কাটাখালীতে পৈতৃক
