মোঃ আতিকুর রহমান
রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভা এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, এমপি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তিনি নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
পদ্মা নদীর ভাঙন গোদাগাড়ী পৌরসভা এলাকার নদীতীরবর্তী জনপদের জন্য দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়। নদীভাঙনের কারণে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, যোগাযোগব্যবস্থা ও স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ স্থানীয়দের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ নদীভাঙনের পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তবে ভাঙন প্রতিরোধে কী ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে, কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে এবং এ জন্য কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন এবং রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন, গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে নদীভাঙন প্রবণ এলাকা পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে পদ্মার ভাঙন মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের বসতভিটা, কৃষিজমি ও অন্যান্য সম্পদ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া আশ্বাসের ভিত্তিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় কারিগরি সমীক্ষা, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবসম্মত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হলে নদীতীরবর্তী জনপদ ও মানুষের সম্পদ সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
এখন গোদাগাড়ীর নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, পরিদর্শনের পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং পদ্মার ভাঙন থেকে জনপদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হবে।
