গোদাগাড়ী প্রতিনিধি
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির ৯৬টি মোবাইল ফোনসহ একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও গোদাগাড়ী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মাইক্রোবাসের চালকসহ পাঁচজনকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোদাগাড়ী উপজেলার চাপাল এলাকায় কামাল রাইস মিলের সামনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করেন। পরে গোদাগাড়ী থানা পুলিশের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযানে যুক্ত হন।
অভিযানের সময় ঢাকা মেট্রো-গ-২৩-১৬-২৬ নম্বরের একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে মাইক্রোবাস থেকে বিভিন্ন কোম্পানির মোট ৯৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে মোবাইল ফোন বহনকারী মাইক্রোবাসটিও জব্দ করা হয়।
অভিযানে জামিল (৩০), পিতা রায়হান, সিরাজগঞ্জ সদর; মো. রামিম (৩০), পিতা আবুল কালাম আজাদ, সিরাজগঞ্জ; মাইক্রোবাসের চালক মো. আজিজুর রহমান, পিতা আনারুল ইসলাম, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ; মো. হোসেন শেখ, পিতা মৃত আব্দুল জলিল, পাবনা এবং মো. শুকুর, পিতা আহমদ মুন্সী, সিরাজগঞ্জ-এই পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মউউদ্দিন কবির ও তাঁর দলের সদস্যরা প্রাথমিকভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। পরে গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সুজন মিয়া, প্রেমতলী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের কর্মকর্তা মাহাবুবসহ পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলো চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সংগ্রহ করে দেশের অন্যত্র নেওয়া হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে এগুলো ভারত থেকে চোরাই পথে আসা মোবাইল ফোন বলে ধারণা করা হলেও, মোবাইলগুলোর প্রকৃত উৎস ও বৈধ কাগজপত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
পুলিশের ধারণা, একটি সংঘবদ্ধ চক্র সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বিভিন্ন ধরনের মোবাইল ফোন সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসতে পারে। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, মোবাইলগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল-এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযান শেষে জব্দ করা ৯৬টি মোবাইল ফোন ও ঢাকা মেট্রো-গ-২৩-১৬-২৬ নম্বরের সাদা রঙের মাইক্রোবাসটি গোদাগাড়ী থানায় নেওয়া হয়। আটক পাঁচজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় গোদাগাড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার পর উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলোর বৈধতা, আমদানি সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং এগুলোর প্রকৃত উৎস যাচাই করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সীমান্তপথে অবৈধভাবে পণ্য প্রবেশ, চোরাচালান ও অবৈধ পণ্য পরিবহনের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলো চোরাই বা অবৈধ পণ্য হিসেবে নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
