ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি
আমাদের দেশের একজন আপাদমস্তক ভাল মানুষ। সৎ মানুষ। শিক্ষিত, মার্জিত ব্যক্তি। ৭৮ বৎসরের জীবনে বিতর্ক তাঁকে স্পর্শ করেনি। তিনি আদর্শে হিমালয় পর্বতের মত অটল, তিনি কথাবার্তায় বিনয়ী, মিষ্ঠিভাষী। তিনি অসম্ভব ত্যাগী, কিন্ত তার চেয়েও বেশী বিনয়ী। আমাদের দেশের রাজনীতিতে যখন নোংরামী আর কুরুচিপূর্ণ ভাষার মহামারী তখন তিনি এক অসাধারণ ব্যতিক্রম ব্যক্তি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন পরিচ্ছন্ন মানুষ। দীর্ঘ জীবনে কলঙ্ক যাকে কখনও স্পর্শ করেনি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আমাদের দেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে আমাদের দেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে সঠিক মানুষটিকে বেছে নিয়েছেন। ইহা আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সুস্থ ধারার রাজনীতির আস্থার প্রতীক। এই ব্যক্তিটির নাম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাড়ি আমাদের দেশের ঠাকুরগাঁও জেলায়। এই মানুষটিকে রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন দিয়ে বিএনপি শুধু সারা জীবন আদর্শ লালন করা একজন অনুকরণীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে সম্মানিত করেনি, রাষ্ট্রপতি পদটিকে সম্মান, মর্যাদা প্রদান করেছেন। এটা সৎ, নিষ্ঠাবান, নিবেদিতপ্রাণ একজন রাজনীতিবিদের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালবাসা। সুস্থ ধারার রাজনীতির বিজয়। আমরা কেমন রাজনীতিবিদ চাই? এই প্রশ্নের উত্তরে চাহিদার ফর্দটা অনেক দীর্ঘ হবে। একজন রাজনীতিবিদকে অবশ্যই আদর্শবান হতে হবে। খারাপ, খারাপ চরিএ,দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন থেকে দুরে থাকতে হবে। হতে হবে জনবান্ধব,কর্মীদের আস্থাভাজন। আমরা আমাদের দেশে এমন রাজনীতিবিদ চাই,যারা কঠিন সময়ে ভেঙে পড়বেন না,পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকবেন। দুঃসময়ে মানুষের পাশে থেকে তাদের ঐক্যবদ্ধ করবেন। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে,এইসব বৈশিষ্ঠ্যে একজন রাজনীতিবিদ পাওয়া আমাদের দেশে সোনার পাথরবাটি পাওয়ার মত। কিন্তু আমাদের সৌভাগ্য যে, এই রকম বৈশিষ্ঠ্যের কথা বললেই আমাদের সামনে ভেসে উঠে যার নাম তিনি আদর্শবান পিতা, আদর্শবান অভিভাবক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কোন পরিচয়ে পরিচিত হবেন মির্জা ফখরুল? তিনি একজন সৎ মানুষ,ভাল মানুষ। একজন মেধাবী ভাল শিক্ষক। একজন আদর্শবান ত্যাগী রাজনীতিবিদ। দুঃসময়ের কান্ডারী। এইসব মিলেই অসাধারণ একজন মানুষ তিনি। আমাদের দেশের রাষ্ট্রপতি হিসাবে তার চেয়ে ভাল কোন প্রার্থী ছিল বলে মনে হয় না। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক- স্নানকোত্তর পাশ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই ছাএরাজনীতিতে নাম লেখান। ইহার পর ধীরে ধীরে সক্রিয় হতে থাকেন ছাএরাজনীতিতে। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাএ ইউনিয়নের একজন সদস্য ছিলেন। এই ছাএ সংগঠনটির ঢাবি এস এম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৬৯ সালের গণ- অভ্যুখানের সময় তিনি এই সংগঠনটির ঢাবি শাখার সভাপতি ছিলেন। ছাএজীবনে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হলেও কর্মজীবনের শুরুতে তিনি শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি তার নিজ এলাকার ঠাকুরগাঁও সরকারী কলেজ- এ অর্থনীতি বিষয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন।। ইহার পর তিনি আরও সরকারী- বেসরকারী কলেজে অধ্যাপনা করেন। ১৯৭২ সালে অধ্যাপনা কে তিনি পেশা হিসাবে গ্রহণ করেন। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও সরকারী কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসাবে শিক্ষকতা করেন তিনি। ইহার পর ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচন কে সামনে রেখে শিক্ষকতা পেশা থেকে অব্যাহতি নিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। সফল নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। মরহুম প্রেসিডেণ্ট এইচ এম এরশাদ সরকার এর সামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলন চলাকালীন সময়ে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল( বিএনপি) এ যোগ দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ইহার পর ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি’র সভাপতি মনোনীত হন তিনি। তিনি তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন পরীক্ষিত নেতা। ত্যাগী নেতা। এখানে বলা প্রয়োজন যে, তিনি বিএনপি তে যোগ দিয়েছিলেন এমন এক সময়ে যখন এই দলটি ছিল দুঃসময়।শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর মৃত্যুর পর বিএনপি এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে। সামরিক শাসন জারি করে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বিএনপি ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেন এই দলের অনেক শীর্ষ নেতা এরশাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দল ত্যাগ করেন। এরশাদ সরকার বিএনপি’র অনেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেন। দল বাঁচাতে,দেশ বাঁচাতে এগিয়ে আসেন মরহুমা সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। স্বৈরাচার মুক্ত করতে তিনি আন্দোলনের ডাক দেন। আমাদের দেশে গণতন্ত্রের জন্য শুরু হয় এক কঠিন লড়াই। বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে বিএনপি তে যোগ দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আমাদের দেশের রাজনীতিতে আমরা দেখতে পাই যে,একটি দল যখন ক্ষমতায় থাকে,তখনই সেই দলে মানুষদের যোগদানের হিড়িক পড়ে যায়। একটি দলের সুসময়ে মৌমাছির অভাব হয় না। কিন্তু দুঃসমযে কর্মীদেরও খুঁজে পাওয়া যায় না। তিনি বিএনপি তে যোগ দিয়েছিলেন এই দলটির দুঃসময়ে। যোগদানের পর দলের সব সংকটে তিনি ছিলেন পাশে। ২০০৭ সাল – এ এক – এগারোর সময় থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের পতন পর্যন্ত বিএনপি’র রাজনৈতিক ইতিহাসে কঠিনতম সময়ে তিনি ছিলেন অকুতোভয় যোদ্ধা। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপি’র ৫ম জাতীয় সম্মেলনে তিনি বিএনপি’র জ্যৈষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব পদে নির্বাচিত হন। এই পদটিতে ইহার আগে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালের ২০ শে মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মৃত্যুবরণ করার পর দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাকে এই দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসাবে ঘোষণা করেন। ২০১৬ সালের ১৯ শে মার্চ এই দলটির ৬ ষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে তাকে মহাসচিব হিসাবে নির্বাচিত করা হয়। এই সময় বিএনপি’র উপর চলে নির্মম অত্যাচার – নির্যাতন। এই সময় এই দলের লাখ লাখ নেতা- কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গুম ও বিচারবহিভূত হত্যাকান্ডের শিকার হন বহু নেতা- কর্মী। তার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা করা হয়। বারবার মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয় এই নির্ভীক নেতাকে। এত জুলুম নির্যাতনেও তার মনোবল ভেঙে ফেলতে পারেনি তৎকালীন সরকার। বিএনপি ভাঙার সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে, নির্দেশনায় দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার কাজ করে যান নিরলসভাবে। শুধু দলের ঐক্য নয়,এই দলকে সুসংগঠিত-শক্তিশালী করেন এই প্রতিভাবান নেতা,দুরদর্শী নেতা। তিনি স্বৈরাচারবিরোধী রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলেন আমাদের দেশেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে। আমাদের দেশের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিএনপি যে নিপীড়নের আগুনে পুড়ে আরও শক্তিশালী, আমাদের দেশের সবচেয়ে একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে,তার পেছনে রয়েছে এই দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর সুযোগ্য নেতৃত্ব,ত্যাগ। তিনি নীতির প্রশ্নে অনড়,আপসহীন হলেও তিনি ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ভিন্ন চিন্তার রাজনৈতিক নেতা- কর্মীদের প্রতি কখনও বাজে কিংবা অশালীন মন্তব্য করেননি তিনি তার রাজনৈতিক জীবনে। এই কারণেই দলমত নির্বিশেষে সবার কাছেই একজন নিপাট ভদ্রলোক হিসাবে পরিচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আমাদের সমাজে অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বের সংখ্যা দিন- দিন কমে যাচ্ছে। কিশোর- তরুণদের সামনে আইডল নেই। কিন্ত এই অস্থির সময়ে তিনি একজন অনুকরণীয় রাজনীতিবিদ। তার চরম রাজনৈতিক প্রতিপক্ষও তাঁকে একজন সজ্জন মানুষ হিসাবে মনে করেন। এই রকম একজন মানুষ আজ আমাদের দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি। এটা আমাদের কাছে নিশ্চয়ই অনেক বড় স্বস্তির খবর। তিনি রাষ্ট্রপতি হওয়ার ফলে আমাদের দেশের মানুষ সত্যিকারের একজন অভিভাবক পেল। রাষ্ট্রপতি হিসাবে তার মত একজন সত্যিকারের সাদা মনের মানুষকে রাস্ট্রপতি মনোনয়ন করায় বিএনপি একটা বড় ধন্যবাদ অবশ্যই পাওয়ার যোগ্য। আমরা আশা করি, তার নেতৃত্বে আমাদের দেশ আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
