সম্পাদকীয়: দেশে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এই অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর জন্য যেমন বাংলাদেশের রেল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দায়ী, তার চেয়ে বেশি দায়ী হলো মানুষের অসচেতনতা। মানুষের অসচেতনভাবে চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত এই দুর্ঘটনা ঘটে চলছে। যে সকল কারণে বর্তমানে এই দুর্ঘটনা ঘটছে তার মধ্যে অন্যতম হলো- অসতর্কভাবে রেললাইন পারাপার, হেডফোন ব্যবহার করে রেললাইনে হাঁটা, রেললাইনে বসে বিভিন্ন গেইম খেলা, এছাড়াও ট্রেন দেখেও দ্রুত রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করা। এছাড়া অনেক মানুষই রেল লাইন ধরে হাঁটে। কিন্তু হাঁটার সময় সতর্ক থাকে না। ফলে ঘটে দুর্ঘটনা।
এখন প্রায় সব মানুষের কাছেই মোবাইল ফোন রয়েছে, কানে থাকে ইয়ারফোন। রেল লাইন দিয়ে চলার সময় কানে ইয়ারফোন ব্যবহারের কারণে ট্রেন আসার শব্দ শুনতে পায় না, ফলে দুর্ঘটনায় জীবন চলে যায়। রেল লাইন ধরে হাঁটতে গিয়ে অনেক সময় অসতর্কতায় রেল লাইনের সংযোগ ফাঁকায় পা আটকেও মানুষ মারা যায়। রেলক্রসিং পারাপারের সময় সাধারণ মানুষ ও যানবাহনসহ সবাইকে তাড়াহুড়ো করতে দেখা যায়। ট্রেন আসছে- ট্রেন আসছে বলে দ্রæত রেল লাইন পার হতে হবে -এরকম একটি প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
কিন্তু দেখা যায় যে, রেললাইন পার হয়ে যাওয়ার শেষ মুহূর্তে গিয়ে আর পেরোনো সম্ভব হয় না এবং কাটা পড়ে। ট্রেন যখন চলতে থাকে তখন রেললাইনে এক ধরনের চুম্বক শক্তির সৃষ্টি হয়। এই চুম্বক শক্তি প্রাণি এবং অন্যান্য বস্তুকে আকর্ষণ করে থাকে। এ কারণে ট্রেন চলার সময় ট্রেনের কাছাকাছি রেল লাইনে কোনো মানুষ বা প্রাণি উঠে গেলে তারা আকর্ষিত হয় এবং দ্রুত সরে যেতে না পারার কারণে ট্রেনে কাটা পড়ে। একইভাবে ট্রেন আসার সময় যে কোনো ধরনের যানবাহন রেললাইনে উঠে গেলে এবং খুব কাছাকছি হলে তরঙ্গ চুম্বক শক্তির কারণে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ঘটে দুর্ঘটনা। রেলক্রসিংয়ে ট্রেন আসার অন্তত দশ মিনিট আগে লাইনম্যান রেলক্রসিং পারাপার বন্ধ করে দেন।
আমাদেরও অপেক্ষা করতে হয় বা অপেক্ষা করা উচিত। কিন্তু অপেক্ষা না করে সিগন্যাল অমান্য করে পারাপার হওয়ার কারণে ঘটে ট্রেন দুর্ঘটনা। রেললাইনের ওপর বসা, দোকান বসানো, খেলাধুলা করা কিংবা রেললাইন দিয়ে চলাচল, টিনএজারদের মোবাইল ব্যবহার করে রেললাইন দিয়ে চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
জনগণ সচেতন হলে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহতের সংখ্যা কমে যাবে। জনগণকে সচেতন করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন। জনসচেতনতা বাড়লে ও যাত্রীসাধারণ সচেতন হলে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহতের সংখ্যা কমে যাবে। ট্রেন ভ্রমণে ও রেললাইনে চলাচলে যাত্রী সাধারণের এমন মৃত্যু কাম্য নয়। রেল কর্তৃপক্ষ জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম জোরালো করলে এই দুর্ঘটনার হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।
