স্টাফ রিপোর্টার
১৯ ডিসেম্বর সোমবার)এই পেঁয়াজ চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছেন কৃষকরা। দেশে পেঁয়াজ নিয়ে সংকটে ঘাটতি মেটাতে ভাল ফল পাওয়া যাচ্ছে। তাই কৃষি বিভাগ স্বল্প খরচে যেন অধিক পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন করা যায় সেদিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
নানা দুর্যোগ ও প্রতিকুল আবহাওয়ার মধ্যেও দেশে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে এই গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ। আগাম এই পেঁয়াজ চাষে কৃষককে সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন কৃষি বিভাগ। জুলাই-আগষ্টে রোপনকৃত পেঁয়াজ নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস থেকেই তোলা যাচ্ছে। আবাদের এ নতুন ধারায় একদিকে দেশের পেঁয়াজ সংকট দূর হবে এবং অন্যদিকে আর্থিকভাবে লাভবান কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব শামসুন নাহার ভুঁইয়া বলেন আমাদের দেশে প্রচলিত মৌসুম অনুযায়ী ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে সাধারণত চাষিরা পেঁয়াজের চারা রোপণ করে থাকেন। তখন চাষি আশানুরুপ ফলন পেলেও দাম কম পেয়ে থাকে। এজন্য ঘক – ৫৩ অসময়ে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের চারা উৎপাদন করে বাজার অস্থিরতা রোধকল্পে এবং চাষিদের লাভবান করার লক্ষ্যে বিনামূল্যে চারা বিতরণ করা হচ্ছে। এতে গ্রীষ্মকালিন পেঁয়াজ চাষে লাভবান হওয়ার লক্ষ্যে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের।
হুজুরিপাড়া উপ সহকারী কৃষি অফিসার রবিউল ইসলাম বলেন ঘক – ৫৩ জাতের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের উৎপাদন বিঘা প্রতি প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ মন। পবা উপজেলায় এবার ৬২০ বিঘা জমিতে নতুন পদ্ধতিতে ঘক – ৫৩ জাতের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের চাষ করেছেন চাষিরা।
সরেজমিনে পবা উপজেলার হুজুরীপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এই এলাকার কৃষকরা গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ করছেন।
পবা উপজেলার হুজুরীপাড়া ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের কৃষক মন্টু মিয়া বলেন, পবা উপজেলায় শীতকালে ব্যাপক পেঁয়াজ চাষ হয়। তবে সময়, চাহিদা ও দাম না পাওয়ায় চাষিকে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
এ বছর তিনি গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ করে ভালো ফলন ও ভালো দাম পেয়েছেন। তাই তিনি সামনে ৫ বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ করবেন। ওই জমিতেই পরে আবার শীতকালীন পেঁয়াজের চাষ করবে বলে জানান তিনি।
পবা উপজেলার শরিষাকুড়ি গ্রামের কৃষক সারোয়ারে আলম মানিক জানান, তিনি ১ বিঘা গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় এ পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকি কম। নভেম্বর থেকেই এ পেঁয়াজ তোলা যায় বলে তিনি জানান। “কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচীর” আওতায় বিনাম‚ল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
